odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 5th March 2026, ৫th March ২০২৬
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হত্যা: বিভাগীয় প্রধানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ, সহকর্মী আটক

নিজ অফিসে ইবি শিক্ষিকাকে হত্যা, একই কক্ষে কর্মচারীর আত্মহত্যার চেষ্টা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৪ March ২০২৬ ২০:৩২

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৪ March ২০২৬ ২০:৩২

 

ক্রাইম প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কুষ্টিয়ায় নিজ অফিস কক্ষে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। একই কক্ষে অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে আত্মহত্যার চেষ্টারত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ক্যাম্পাসজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক আরএমও ডা. ইমাম হোসাইন সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পূর্বের বদলি নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রোশ?

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ফজলুর রহমান পূর্বে সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে বিভাগীয় প্রধান তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করেন। বদলির আগে তাকে একাধিকবার সতর্ক ও সুযোগ দেওয়া হলেও আচরণে পরিবর্তন না আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

সূত্রের দাবি, বদলির সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে ফজলুর রহমান বিভাগে পুনর্বহালের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করেন। কিন্তু বিভাগীয় সভাপতি রাজি না হওয়ায় ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

দরজা ভেঙে উদ্ধার

ঘটনার সময় ভবনের দায়িত্বরত আনসার সদস্য জানান, তিনি নিচতলায় অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ কয়েকবার ‘বাঁচাও’ চিৎকার শুনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে উপরে যান। রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে দরজার ছোট ছিদ্র দিয়ে ভেতরের অবস্থা দেখে সন্দেহ হয়। পরে কয়েকজন মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রক্তাক্ত অবস্থায় শিক্ষিকাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে এবং অভিযুক্তকে নিজের গলায় আঘাত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা করছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

মো. সামিউল ইসলাম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

 

নিজ অফিসে ইবি শিক্ষিকাকে হত্যা, একই কক্ষে কর্মচারীর আত্মহত্যার চেষ্টা

#ইসলামী_বিশ্ববিদ্যালয় #ইবি #শিক্ষক_হত্যা #কুষ্টিয়া #ক্যাম্পাস_সংবাদ #অপরাধ_সংবাদ #অধিকার_পত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: