নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
৪৭ বছর আগে ঠিক যেখানে দাঁড়িয়ে কোদাল হাতে তুলে নিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আজ ঠিক সেখানেই বাবার স্মৃতি ও কর্মের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন তার ছেলে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মাধ্যমে তিনি দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের এক বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা করেন। ধূসর রঙের পোলো শার্ট, নীল জিন্স আর মাথায় লাল-সবুজ ক্যাপ পরে প্রধানমন্ত্রী যখন নিজেই কোদাল হাতে খালের মাটি কাটতে শুরু করেন, তখন চারপাশ টেক ব্যাক বাংলাদেশ ও শহীদ জিয়ার বাংলাদেশ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাদা গেঞ্জি ও গ্যাবাডিনের প্যান্ট পরে এই সাহাপাড়া খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমেই তার ঐতিহাসিক খাল কাটা বিপ্লব শুরু করেছিলেন। আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই একই স্থানে দাঁড়িয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিবেশ সুরক্ষা ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতির বার্তা দিলেন। উদ্বোধনের পর তিনি খালের পাড়ে একটি গাছ রোপণ করে পরিবেশ সংরক্ষণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটারের মহাপরিকল্পনা
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী, নাল ও জলাধার খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে:
প্রথম পর্যায়: দেশের ৫৩টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
সাহাপাড়া খাল: ১২.২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি পুনঃখনন করা হবে।
কারিগরি দিক: খালের উজানে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হবে যাতে শুকনো মৌসুমে পানি সংরক্ষণ করে সেচকাজে ব্যবহার করা যায়।
বনায়ন: শুধু সাহাপাড়া খালের দুই পাড়েই প্রায় ২৪ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয়দের উচ্ছ্বাস ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
খালের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ এই দৃশ্য উপভোগ করেন। স্থানীয় ৭৪ বছর বয়সী কুলসুম বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "বাবার মতোই ছেলে খাল কাটছে। শহীদ জিয়া মানুষের সাথে মিলে মিশে কাজ করতেন, আজ তারেক রহমানও তাই করছেন।" স্থানীয় কৃষকরা আশা করছেন, পুনর্ভবা নদীর সাথে সংযুক্ত এই খালটি পুনঃখনন হলে এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হবে। বর্ষাকালে পানি দ্রুত সরে যাবে এবং শুকনো মৌসুমে সেচ সুবিধার ফলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি খালে মাছ চাষ ও হাঁস পালনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরাও।
উপস্থিত ছিলেন যারা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিবসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। দিনাজপুরের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী নীলফামারীর সৈয়দপুর হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। যাওয়ার পথে তিনি ফরিদপুর গোরস্তানে নিকটাত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: