odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 19th April 2026, ১৯th April ২০২৬
যুদ্ধের মাঝেই মার্কিন দূতের মন্তব্য ঘিরে ক্ষোভ, সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া

লেবাননে বিতর্ক: ইসরায়েল সমর্থনে প্রশংসিত ব্যাংকার সেহনাউই

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৭ April ২০২৬ ১৯:২৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৭ April ২০২৬ ১৯:২৪

অধিকারপত্র ডটকম আন্তর্জাতিক ডেক্স:

লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই দেশটির শীর্ষ ব্যাংকার অ্যান্টুন সেহনাউইকে ইসরায়েল সমর্থনের জন্য প্রকাশ্যে প্রশংসা করায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য দূত মর্গান অরটাগাসের এই মন্তব্য দেশজুড়ে ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

১৭ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন সেহনাউই। সেখানে অরটাগাস তাকে “প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জায়নিস্ট” হিসেবে উল্লেখ করে তার পরিবারের দীর্ঘদিনের ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

এই মন্তব্য এমন এক সময়ে আসে, যখন ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে শত শত মানুষ নিহত এবং দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে।

অরটাগাস তার বক্তব্যে বলেন, ইসরায়েলকে সমর্থন করা “নৈতিক স্পষ্টতা”র পরিচয়, যদিও তা ব্যক্তিগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি দাবি করেন, সেহনাউই এমন কিছু প্রকল্পে অর্থায়ন করেছেন যা লেবাননের আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কারণ দেশটিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা নিষিদ্ধ।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই সেহনাউইকে “দেশদ্রোহী” আখ্যা দিয়ে তার শাস্তি দাবি করেছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তিনি নিজের দেশের মানুষের দুর্ভোগ উপেক্ষা করে ইসরায়েলের পক্ষ নিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি হলোকাস্ট জাদুঘর পরিদর্শন নিজে বিতর্কিত নয়, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলপন্থী অবস্থান প্রকাশ করাই মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে লেবাননের জনগণ যখন যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির কষ্টে ভুগছে, তখন এই ধরনের মন্তব্য আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

এছাড়া, সেহনাউইয়ের বিরুদ্ধে লেবাননে অর্থপাচারের অভিযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে, যদিও তিনি ও তার ব্যাংক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন ও সামাজিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির নিরপেক্ষতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: