প্রকাশিত: ২৯ মে ২০২৬, রাত ১০:১২
আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম:
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তারের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জার্মানি। দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত বার্লিন এবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা গাজাকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করার যেকোনো পরিকল্পনার বিরোধী।
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র শুক্রবার বলেন, গাজার ভৌগোলিক অখণ্ডতা নষ্ট হয়—এমন কোনো পদক্ষেপকে সমর্থন করে না জার্মানি। এই মন্তব্য আসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর।
সম্প্রতি Netanyahu জানান, ইসরায়েলি বাহিনী ইতোমধ্যে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করেছে এবং ধাপে ধাপে তা আরও বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, “আমরা চারদিক থেকে হামাসকে চেপে ধরছি। প্রয়োজন হলে আরও এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবর যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, সেখানে ইসরায়েলকে সীমিত সামরিক উপস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েল আবারও নতুন নতুন এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে।
বর্তমানে গাজার প্রায় ২৩ লাখ মানুষ ছোট এই ভূখণ্ডের মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এলাকায় গাদাগাদি করে বসবাস করছে। নতুন করে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হলে মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জার্মানি ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের অন্যতম বড় সমর্থক এবং যুক্তরাষ্ট্রের পর দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীর দখল সম্প্রসারণ, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযানের বিষয়ে বার্লিন আগের তুলনায় বেশি সমালোচনামূলক অবস্থান নিচ্ছে।
এদিকে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আশঙ্কা বাড়ছে যে, ইসরায়েল গাজার বড় অংশ স্থায়ীভাবে সংযুক্ত বা কার্যত দখলে রাখতে চায়। ইসরায়েলের কয়েকজন মন্ত্রী প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনিদের “স্বেচ্ছায় স্থানত্যাগ” পরিকল্পনার কথাও বলেছেন।
সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী Israel Katz বলেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের “স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন” উৎসাহিত করার উদ্যোগ চলছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, দীর্ঘ যুদ্ধ, অবকাঠামো ধ্বংস এবং মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে “স্বেচ্ছায়” শব্দটি বাস্তবে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির আড়াল হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েল যদি গাজার বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও আরও জোরালো হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: