odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 5th June 2026, ৫th June ২০২৬
১৮০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় EIU-এর ৪১তম সমাবর্তনে বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম ও মানবিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা প্রদান

দিল্লির মঞ্চে বাংলাদেশের গৌরব: সম্মানসূচক ডক্টরেটে ভূষিত হাসিবুর রেজা কল্লোল│সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম ও মানবিক নেতৃত্বে অসামান্য অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

Special Correspondent | প্রকাশিত: ৩ June ২০২৬ ১৮:১৬

Special Correspondent
প্রকাশিত: ৩ June ২০২৬ ১৮:১৬

অধিকারপত্র বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র নির্মাণ, গণমাধ্যম নেতৃত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় EIU-এর ৪১তম সমাবর্তনে সম্মানসূচক ডক্টরেট লাভ করেছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক ও চ্যানেল নাইন-এর সিইও হাসিবুর রেজা কল্লোল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তাঁকে সম্মানিত করা হয়। আলোকচিত্রী থেকে সাংবাদিক, সম্পাদক, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক—বহুমাত্রিক কর্মজীবনের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ এবং মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে তাঁর সুদীর্ঘ কাজ বিশেষভাবে আলোচিত। অধিকারপত্রের উপদেষ্টা সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও অধ্যাপক ড. মাহাবুবুল ইসলাম তাঁর মানবিকতা, সংস্কৃতিচর্চা এবং প্রতিবন্ধিতা অধিকার বিষয়ে প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির উচ্চ প্রশংসা করেছেন। এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা শুধু একজন ব্যক্তির অর্জন নয়; এটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধেরও এক গৌরবময় স্বীকৃতি।

বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং গণমাধ্যমে দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক, চ্যানেল নাইন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসিবুর রেজা কল্লোল-কে সম্মানসূচক ডক্টরেট (Honorary Doctorate) প্রদান করেছে ভারতের ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান University of Delhi-ক্যাম্পাসে আয়োজিত মনোজ্ঞ অনুস্ঠানের মাধ্যমে যেখানে ভারতীয় সরকারের কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। ১৮০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় EIU-এর ৪১তম সমাবর্তনে বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম ও মানবিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই সম্মাননা তাঁর দীর্ঘ সৃজনশীল কর্মযাত্রা, বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে অনন্য ভূমিকা এবং চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমে উদ্ভাবনী নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হাসিবুর রেজা কল্লোল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, নাটক, টেলিভিশন এবং বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণে এক সুপরিচিত নাম। তাঁর নির্মিত বিভিন্ন কাজ দর্শকপ্রিয়তার পাশাপাশি শিল্পমান, মানবিক আবেদন এবং সাংস্কৃতিক চেতনার জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গণমাধ্যমকে সামাজিক পরিবর্তন, সংস্কৃতি বিকাশ এবং জাতীয় পরিচয় নির্মাণের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

চ্যানেল নাইন-এর নেতৃত্বে তিনি দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে নতুন চিন্তা, সৃজনশীল উপস্থাপনা এবং সাংস্কৃতিক দায়িত্ববোধের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতির নানা দিক দেশ-বিদেশের দর্শকদের সামনে নতুনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে অধিকারপত্র–এর উপদেষ্টা সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক মাহবুব লিটু এক অভিনন্দন বার্তায় বলেন,

“হাসিবুর রেজা কল্লোলের এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল গণমাধ্যমের জন্যও এক গৌরবময় স্বীকৃতি। তিনি প্রমাণ করেছেন যে নিষ্ঠা, সৃজনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সম্মান অর্জন করতে পারে। তাঁর এই সম্মাননা দেশের তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন,

“বাংলা সংস্কৃতির বিশ্বায়ন, শিল্পের উৎকর্ষ এবং মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক গণমাধ্যম চর্চায় হাসিবুর রেজা কল্লোলের অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশক হয়ে থাকবে।”

অধিকারপত্র পরিবার বিশ্বাস করে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করবে।

অধিকারপত্র পরিবারের পক্ষ থেকে হাসিবুর রেজা কল্লোলকে আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু অব্যাহত সাফল্য কামনা করা হচ্ছে

কে এই হাসিবুর রেজা কল্লোল?

এই সাফল্যে অধিকারপত্র মনে করে কল্লোল সম্পর্ক একটু দৃষ্টিপাত করা যেতেই পারে, যাতে তাঁর সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায় ।

  • বহুমাত্রিক প্রতিভার এক উজ্জ্বল নাম: হাসিবুর রেজা কল্লোল কেবল একজন চলচ্চিত্র পরিচালক নন; তিনি একাধারে লেখক, কবি, গল্পকার, গীতিকার, টেলিভিশন প্রযোজক, সাংবাদিক, চিত্রগ্রাহক এবং মিডিয়া সংগঠক। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও সৃজনশীল শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সক্রিয় ও সফল পদচারণা তাঁকে দেশের অন্যতম বহুমাত্রিক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
  • গণমাধ্যমে নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়: বাংলাদেশের বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন শিল্পে নেতৃত্বের নতুন অধ্যায় সূচনা করে তিনি ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চ্যানেল নাইন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি জাতীয় দৈনিক নয়া শতাব্দী-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সংবাদপত্রটির সম্পাদকীয় নেতৃত্বকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করেন। তাঁর এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণকে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের জন্য একটি ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর এই নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাব লিমিটেড, গুলশান কর্পোরেট ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, গণমাধ্যম ও বিনোদন সংশ্লিষ্ট সংগঠন অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। দেশের সাংবাদিক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রতিনিধিরাও তাঁর নেতৃত্বে চ্যানেল নাইন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
  • সত্তাথেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে: চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে হাসিবুর রেজা কল্লোল বিশেষভাবে আলোচনায় আসেন ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র“Satta” পরিচালনার মাধ্যমে। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেন ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক “Shakib Khan” এবং ভারতীয় অভিনেত্রী “Paoli Dam”। মুক্তির পর চলচ্চিত্রটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত হয় এবং একজন নির্মাতা হিসেবে তাঁর পরিচিতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। শুধু চলচ্চিত্র নয়, টেলিভিশন নাটক, নাটকের চিত্রনাট্য রচনা, তথ্যচিত্র নির্মাণ এবং বিভিন্ন সৃজনশীল মিডিয়া প্রযোজনার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর নির্মাণশৈলীতে মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শিল্প-নান্দনিকতার সমন্বয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
  • আলোকচিত্র থেকে সম্পাদকীয় নেতৃত্ব: যশোর সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণকারী হাসিবুর রেজা কল্লোল কর্মজীবন শুরু করেন একজন আলোকচিত্রী হিসেবে। পরবর্তীকালে তিনি দেশের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমসমূহে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। আধুনিক বাংলা সাংবাদিকতার পথিকৃৎ সংবাদপত্র “Ajker Kagoj”, “Prothom Alo”, “Ekushey Television”, Banglavision এবং Boishakhi Television-এ সংবাদ প্রযোজক হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে তিনি GTV এবং The Daily Star-এর মতো প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকতা, সংবাদ ব্যবস্থাপনা, টেলিভিশন প্রযোজনা এবং সম্পাদকীয় নেতৃত্ব—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি দক্ষতা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
  • ব্যক্তি জীবনের প্রেরণা: ব্যস্ত পেশাজীবনের পাশাপাশি হাসিবুর রেজা কল্লোল একজন পারিবারিক মানুষ। তাঁর সহধর্মিণী জেসমিন আখতার বিথী। তাঁদের দুই সন্তান—সত্তা রেজা ও শিল্প রেজা। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পিতা আব্দুর রাজ্জাক এবং মাতা হাসিনা মমতাজের মূল্যবোধ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ তাঁর জীবন ও কর্মে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা মনে করেন।
  • বন্ধুদের হৃদয়ের স্পন্দন—হাসিবুর রেজা কল্লোল: বন্ধুত্বের পরিমণ্ডলে হাসিবুর রেজা কল্লোল এক অনন্য নাম। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের কাছে তিনি শুধু একজন সফল চলচ্চিত্র নির্মাতা, সাংবাদিক বা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নন; তিনি বন্ধুদের হৃদয়ের মানুষ। সুখে-দুঃখে, সংকটে-সম্ভাবনায় তিনি সবসময় বন্ধুদের পাশে দাঁড়ান নিঃস্বার্থভাবে। তাঁর উদারতা, আন্তরিকতা, মানবিকতা এবং মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা তাঁকে বন্ধুদের আস্থার আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছে। অনেকেই বলেন, “কল্লোল বন্ধুদের হৃদয়ের স্পন্দন”— কারণ তিনি সম্পর্ককে স্বার্থের নয়, ভালোবাসা, সম্মান এবং বিশ্বাসের বন্ধনে ধারণ করেন। পেশাগত সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করেও তিনি বন্ধুত্বের উষ্ণতা, মানবিক সংযোগ এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাকে কখনো বিসর্জন দেননি। এ কারণেই বন্ধু, সহকর্মী, শিল্পী, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের কাছে হাসিবুর রেজা কল্লোল শুধু একজন ব্যক্তি নন, বরং এক প্রাণস্পর্শী উপস্থিতি, যার হৃদয়ে মানুষের জন্য সবসময় একটি বিশেষ স্থান সংরক্ষিত থাকে।
  • বাংলাদেশেরসাংস্কৃতিকঅঙ্গনেরজন্যএকগর্বেরমুহূর্ত: এই সম্মানসূচক ডক্টরেট অর্জন হাসিবুর রেজা কল্লোলের ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি অতিক্রম করে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং সংস্কৃতিচর্চার জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর এই অর্জন দেশের তরুণ নির্মাতা, সাংবাদিক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলা সংস্কৃতির মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করবে।

একজন সংস্কৃতিসংগ্রামী মানুষ হিসেবে কল্লোল

অধিকারপত্র–এর উপদেষ্টা সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক . মাহবুবুর রহমান (মাহবুব লিটু) হাসিবুর রেজা কল্লোল সম্পর্কে ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,

“হাসিবুর রেজা কল্লোল একজন অসাধারণ হৃদয়বান মানুষ, একজন সত্যিকারের সংস্কৃতিসেবক এবং আমার অন্যতম প্রিয় বন্ধু। আমি তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তিনি শুধু একজন সফল চলচ্চিত্র নির্মাতা বা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব নন; তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং মুক্তচিন্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে ভাবেন।”

তিনি আরও বলেন,

“বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সাহিত্য, শিল্প এবং মানবিক চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রশ্নে কল্লোল সবসময়ই আবেগপ্রবণ। আমি বহুবার দেখেছি—সংস্কৃতির অবক্ষয়, অসহিষ্ণুতা কিংবা সামাজিক পশ্চাৎপদতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁর চোখ ভিজে উঠেছে। তিনি হৃদয় থেকে বিশ্বাস করেন যে আগামী প্রজন্মকে সংকীর্ণতা, কুসংস্কার, মৌলবাদ, ঘৃণা এবং বিভাজনের রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখতে হবে।”

অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আরও যোগ করেন,

“তাঁর স্বপ্ন এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে শিশুরা মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা, মানবিকতা এবং সংস্কৃতির আলোয় বড় হবে; যেখানে মানুষ ধর্ম, বর্ণ, মত কিংবা পরিচয়ের ভিন্নতার কারণে বিভক্ত হবে না; বরং শিল্প, সাহিত্য, জ্ঞান এবং মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে একে অপরের কাছাকাছি আসবে। এই মানবিক দর্শনই হাসিবুর রেজা কল্লোলকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।”

তিনি বলেন,

“বিদেশী এই সম্মানসূচক ডক্টরেট তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি হলেও আমি মনে করি এটি মূলত তাঁর সেই দীর্ঘ সাংস্কৃতিক সংগ্রাম, মানবিক দর্শন এবং সৃজনশীল নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক হিসেবে তিনি এই সম্মানের পুরোপুরি যোগ্য।”

শেষে তিনি হাসিবুর রেজা কল্লোলের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সৃজনশীল কর্মযজ্ঞের ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করেন।

প্রতিবন্ধিতা অধিকার অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে কল্লোলের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি

বাংলাদেশের প্রতিবন্ধিতা অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, অধিকারপত্র–এর উপদেষ্টা সম্পাদক, বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর ডিসেবিলিটি প্রফেশনালস (BNADP)-এর President, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষ শিক্ষা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং অধ্যাপক . মাহবুব লিটু বলেন, ”হাসিবুর রেজা কল্লোলকে শুধু একজন সফল চলচ্চিত্র নির্মাতা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কিংবা সংস্কৃতিসেবক হিসেবে মূল্যায়ন করলে তাঁর পূর্ণ পরিচয় তুলে ধরা সম্ভব হবে না।”

তিনি বলেন,

“হাসিবুর রেজা কল্লোল একজন সংস্কৃতিবান মানুষ, কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা হলো তিনি একজন গভীর মানবিক বোধসম্পন্ন ব্যক্তি। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি তাঁর কমিটমেন্ট, সংবেদনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের স্বপ্ন আমাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি প্রতিবন্ধিতাকে করুণা বা দয়ার বিষয় হিসেবে নয়, মানবাধিকার, মর্যাদা ও সম্ভাবনার প্রশ্ন হিসেবে দেখেন।”

. মাহবুব লিটু আরও জানান যে,

হাসিবুর রেজা কল্লোল বর্তমানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও সাফল্যকে কেন্দ্র করে একটি কালজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এই উদ্যোগকে তিনি বাংলাদেশের প্রতিবন্ধিতা অধিকার আন্দোলনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন।

এ বিষয়ে অধিকারপত্র–এর পক্ষ থেকে হাসিবুর রেজা কল্লোলের মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন,

“প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি আমাদের কোনো দয়া, করুণা বা সহানুভূতি দেখানোর প্রয়োজন নেই। তারা ভিক্ষা নয়, অধিকার চায়। তাদের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ এবং আমাদের সবার দায়িত্ব। আমরা যে যার অবস্থান থেকে যদি সামান্য করে হলেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই, তাহলে বাংলাদেশের মাটিতেও অসংখ্য বিশ্বমানের প্রতিভা বিকশিত হবে।”

তিনি আরও বলেন,

“ইতিহাস সাক্ষী যে পৃথিবীর অনেক অসাধারণ মানুষ নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা নিয়েও মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নিয়েছেন। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনার কোনো অভাব নেই। প্রয়োজন শুধু সুযোগ, গ্রহণযোগ্যতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ। প্রতিবন্ধিতা কোনো অভিশাপ নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি ভিন্নভাবে পৃথিবীকে দেখার এক অনন্য ক্ষমতা। বিশেষ করে অটিজমকে আমি মহান সৃষ্টিকর্তার এক বিশেষ উপহার হিসেবেও দেখতে চাই, যদি আমরা সেই সম্ভাবনাকে বিকশিত করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারি।”

অধিকারপত্র পরিবার মনে করে, প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে হাসিবুর রেজা কল্লোলের এই মানবিক, অধিকারভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন, সাংস্কৃতিক অগ্রগতি এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাঁর এই চিন্তা ও উদ্যোগের জন্য অধিকারপত্র পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হচ্ছে এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সৃজনশীল কর্মযাত্রার ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করা হচ্ছে।

সাইদুর রহমান (বাবু), Special Correspondent, অধিকারপত্র ডট কম

#হাসিবুর_রেজা_কল্লোল #HonoraryDoctorate #DelhiUniversity #বাংলা_সংস্কৃতি #বাংলাদেশের_গর্ব #চলচ্চিত্র_নির্মাতা #গণমাধ্যম_নেতৃত্ব #ChannelNine #সত্তা #BanglaCinema #CulturalIcon #BangladeshMedia #FilmDirector #CreativeLeadership #বাংলার_গৌরব #InternationalRecognition #বাংলা_চলচ্চিত্র #সংস্কৃতির_দূত #HumanityAndCulture #InclusiveBangladesh #DisabilityRights #MediaPersonality #GlobalBangla #বাংলাদেশের_সাফল্য #Odhikarpatra #CulturalLeadership #Inspiration #PrideOfBangladesh #BanglaHeritage #VisionaryLeader



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: