প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | নিজস্ব প্রতিবেদক অধিকার পত্র ডটকম
ঢাকা: অর্থনৈতিক সুশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সবার জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ব্যবসা পরিচালনা ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেই সরকার কাজ করছে এবং সেই লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে অর্থনৈতিক ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে বর্তমানে সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে দ্রুততম সময়ে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ‘রপ্তানি নীতি’ হালনাগাদ করা হয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহজে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ হালনাগাদের কাজ চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রপ্তানিমুখী আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান অশুল্ক বাধা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্ডেড ও নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের জন্য এফওসি ভিত্তিতে আমদানির সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ ব্যবস্থাও শিথিল করা হচ্ছে। এখন থেকে সকল আমদানিকারক মূল্যসীমা নির্বিশেষে এলসি ছাড়াই সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ পাবেন।
বিনিয়োগকারীদের প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা দূর করতে সরকার বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যবসা স্থানান্তর, শেয়ার বিক্রয় কিংবা ব্যবসা বন্ধ করার পর মূলধন ও অর্জিত লভ্যাংশ নিজ দেশে ফেরত নিতে অনেক সময় জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার মুখোমুখি হতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে মূলধন ও বিনিয়োগ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত ‘মূলধন প্রত্যাবর্তন-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি’ বিদ্যমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, যা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, বিনিয়োগ কার্যক্রমের সূচনা আরও দ্রুত, সহজ এবং পূর্বানুমানযোগ্য করতে লাইসেন্সিং ও অন্যান্য অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বৈঠক শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৩০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি তারকা চিহ্নিত তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেন এবং বিভিন্ন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নেরও জবাব প্রদান করেন।
তারেক রহমান ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বিনিয়োগ অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বিডা বেজা আমদানি নীতি রপ্তানি নীতি জাতীয় সংসদ বাংলাদেশ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: