odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 12th June 2026, ১২th June ২০২৬
ব্যবসা নিবন্ধন ৪৮ ঘণ্টায়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সুবিধা

বিনিয়োগ বাড়াতে সিঙ্গেল উইন্ডো সেবা, ৭ দিনের মধ্যে অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১১ June ২০২৬ ২৩:১৬

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১১ June ২০২৬ ২৩:১৬

অধিকার পত্র ডটকম

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা: দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ করতে লাইসেন্স ও অনুমোদন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করা হবে, যেখানে আবেদন থেকে অনুমোদন পর্যন্ত সব কার্যক্রম একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এ ঘোষণা দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আবেদন জমা, যাচাই, লাইসেন্স প্রদান, ছাড়পত্র, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সব সেবা একই প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। পূর্ণাঙ্গ আবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সেবাগুলো সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি লাইসেন্স ও অনুমোদন সেবার জন্য নির্দিষ্ট সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ) নির্ধারণ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সংস্থা মতামত, অনাপত্তি বা ছাড়পত্র প্রদান না করলে ‘ডিমড অ্যাপ্রুভাল’ বা স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের মাধ্যমে আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে।

ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনলাইনভিত্তিক প্রাথমিক অনুমোদন ব্যবস্থাও চালু করা হবে। ফলে উদ্যোক্তারা দ্রুত ব্যবসা শুরু করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি কোম্পানির নাম ছাড়পত্র, নিবন্ধন আবেদন, ফি পরিশোধ এবং নিবন্ধন সনদ প্রদানসহ পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার আরও কিছু বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের ওয়ার্ক পারমিট সাত দিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা ১০ দিনের মধ্যে প্রদানের ব্যবস্থা সহজ করা হবে। এছাড়া যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি বিনিয়োগকারী ভিসা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বড় ও কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য সহায়তা কর্মকর্তা, প্রকল্পভিত্তিক কেস ম্যানেজার এবং সার্বক্ষণিক হেল্প ডেস্ক চালুর কথাও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আধুনিক গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা জোরদারে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি সম্প্রসারণ, দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি হালনাগাদ এবং এসব চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সেবাকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল বিনিয়োগসেবা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। আবেদন, ফি পরিশোধ, নবায়ন এবং লাইসেন্স প্রদানসহ সব কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে।

এছাড়া নির্বাচিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ শিল্প সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যবস্থায় জমি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, সড়ক সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক অনুমোদন আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারেন।

সরকারের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা কমবে, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: