odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 2nd November 2026, ২nd November ২০২৬
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

মহানবী (সা.) সবার জন্য অনুসরণীয় আদর্শ: শফিকুর রহমান

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১১ September ২০২৬ ২৩:৪৫

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১১ September ২০২৬ ২৩:৪৫

অধিকার পত্র ডটকম ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কিশোর থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের জন্যই অনুসরণীয় আদর্শ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ হিসেবে মহানবী (সা.)-এর পদাঙ্ক অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর দেখানো পথ অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করতে হবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘রোড টু সিরাহ’ জাতীয় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার পথ একটিই। আর তা হলো মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করা। তাঁর জীবন ও আদর্শকে অনুসরণ করেই চলতে হবে।

মহানবী (সা.)-এর শৈশবের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি শিশু যদি প্রশ্ন করে—‘আমি কাকে অনুসরণ করব?’—তাহলে তার জন্য মহানবী (সা.)-এর শৈশবই অনুসরণীয়। শৈশবে দুধভাইয়ের অধিকার নষ্ট না করা, কারও প্রতি কষ্টদায়ক আচরণ না করা, অশ্লীল কথা না বলা এবং কারও অধিকার ক্ষুণ্ন না করার মতো গুণাবলির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

কিশোর বয়সের উদাহরণ তুলে জামায়াতের আমির বলেন, মক্কার শান্ত, সৌম্য, বুদ্ধিদীপ্ত ও দায়িত্বশীল কিশোর মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনও কিশোরদের জন্য অনুসরণীয়।

তিনি বলেন, কাবাঘর পুনর্নির্মাণের পর হাজরে আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে মক্কার চারটি গোত্রের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছিল। এমনকি তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। ওই পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.) ন্যায়সংগত ও নিখুঁত সমাধান দিয়েছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-কে শৈশব, কৈশোর ও যৌবনসহ জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে উত্তম চরিত্র ও গুণাবলিতে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছিলেন।

মহানবী (সা.)-এর জীবনের প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জন্মের আগেই পিতাকে হারানো এবং মাত্র ছয় বছর বয়সে মায়ের ইন্তেকাল—এরপর আট বছর বয়সে দাদার মৃত্যু—এভাবে জীবনে একের পর এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, একজন ব্যবসায়ী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ, সমন্বয়ক কিংবা বিচারকের দায়িত্ব—জীবনের যে ক্ষেত্রেই অনুসরণের প্রশ্ন আসুক না কেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সবার জন্য অনুসরণীয়।

হেদায়েতের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, হেদায়েত অর্থ সঠিক পথের দিশা পাওয়া। কারও জন্য হেদায়েতের দোয়া করা বদদোয়া নয়; বরং এটি আল্লাহর কাছে সঠিক পথ পাওয়ার জন্য করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া।

তিনি মানুষকে মহানবী (সা.)-এর জীবন, চরিত্র ও আদর্শ অনুসরণ করে চলার আহ্বান জানান।