odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 26th October 2026, ২৬th October ২০২৬
দক্ষিণ জর্ডানে শেষকৃত্যের সময় গুলিতে প্রাণহানির ঘটনা; নিহতদের আটজনকে সমাহিত, হামলাকারীদের খুঁজছে কর্তৃপক্ষ

জর্ডানে গির্জায় হামলায় নিহত ৯, আটজনের জানাজা-শেষকৃত্যে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৬ October ২০২৬ ০২:২৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৬ October ২০২৬ ০২:২৪

অধিকারপত্র ডটকম | আন্তর্জাতিক**

জর্ডানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি গির্জায় শেষকৃত্য চলাকালে গুলির ঘটনায় নিহত নয়জনের মধ্যে আটজনকে রোববার (২৫ অক্টোবর) সমাহিত করা হয়েছে। নিহতদের শেষবিদায়ে হাজারো মানুষ অংশ নেন। হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

আল জাজিরার ২৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারাক প্রদেশের রাজধানী আম্মানের দক্ষিণ-পশ্চিমে হামুদ গ্রামের সেন্ট জর্জ গ্রিক অর্থোডক্স গির্জার পাশে নিহতদের আটজনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার আরেকটি শেষকৃত্যের সময় গির্জার বাইরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে।

নিহত নবম ব্যক্তি মোহাম্মদ আল-কাসুসের দাফন সোমবার হওয়ার কথা বলে তাঁর পরিবার এএফপিকে জানিয়েছে।

শেষকৃত্যের সময় গুলিবর্ষণ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার গির্জায় প্রায় ১৭০ থেকে ২০০ জন উপস্থিত ছিলেন। গুলির শব্দ শোনার পর প্রথমে অনেকেই বুঝতে পারেননি কী ঘটছে। পরে আতঙ্কিত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য গির্জার ভেতরে ছুটে যান।

হামলায় ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে আল জাজিরার ভিডিও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিহতদের কফিন জর্ডানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো অবস্থায় শেষকৃত্যের জন্য নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সরকারের মন্ত্রী, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

ধর্মীয় সম্প্রীতির আহ্বান

জর্ডানের কর্তৃপক্ষ হামলাটিকে ‘চরমপন্থী সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে হামলাকারীরা কোনো সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। কোনো সংগঠনও হামলার দায় স্বীকার করেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জর্ডানের জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ খ্রিষ্টান। হামলার পর দেশটিতে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়।

হামলার ঘটনায় মুসলিম ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে সংহতির বার্তাও এসেছে। গির্জার যাজক ইয়োহান্না হামাতি ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলায় মুসলিমরাও আহত হয়েছেন এবং শোকের এই সময়ে সম্প্রদায়ভেদে পার্থক্য করা উচিত নয়।

**সূত্র: আল জাজিরা, ২৫ অক্টোবর ২০২৬।**