odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 8th November 2026, ৮th November ২০২৬

ইসরায়েলে সরকার গঠনের কঠিন সমীকরণে আইজেনকোট, জোটে বড় বাধা আরব দল

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৮ November ২০২৬ ২২:০৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৮ November ২০২৬ ২২:০৪

আলজাজিরার প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে অধিকার পত্র ডটকমের আন্তর্জাতিক ডেস্কের ফরম্যাটে নিউজটি সাজিয়ে দিলাম।

ইসরায়েলে সরকার গঠনের কঠিন সমীকরণে আইজেনকোট, জোটে বড় বাধা আরব দল

অধিকার হাইলাইট: নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ পেয়েছেন গাদি আইজেনকোট। তবে বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ এবং আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে অনিশ্চয়তায় তার পথ কঠিন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ পেয়েছেন বিরোধী নেতা ও দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর শনিবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন।
সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোটকে ২৮ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সরকার গঠন করতে না পারলে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানোর আবেদন করতে পারবেন তিনি।
তবে ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন কোনো পক্ষের কাছেই নেই। ফলে আইজেনকোটের জন্য বিরোধী দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনা এবং সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিরোধী জোটে ৪৮ আসন

আইজেনকোটের সম্ভাব্য জোটে রয়েছে তার ইয়াশার পার্টি, ইয়াইর গোলানের নেতৃত্বাধীন মধ্য-বাম ডেমোক্র্যাটস, নাফতালি বেনেটের মধ্য-ডান ‘টুগেদার’ পার্টি এবং আভিগদোর লিবারম্যানের ডানপন্থি ‘ইসরায়েল আওয়ার হোম’।
এই চার দলের হাতে মোট ৪৮টি আসন রয়েছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে ১৩টি কম।
অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের সম্মিলিত আসন ১৯টি। এই দলগুলো আইজেনকোটের সরকার গঠনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছে। তাদের সমর্থন পেলে নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের আসন দাঁড়াবে ৬৭টি।
তবে এখানেই তৈরি হয়েছে বড় রাজনৈতিক জটিলতা। আইজেনকোট স্পষ্ট করেছেন, আরব দলগুলোকে তার সরকারে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। লিবারম্যানও আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সংখ্যালঘু সরকার গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ইয়াইর গোলানের ডেমোক্র্যাটস আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি আগ্রহী।

নেতানিয়াহুর জোটে এখন ৫৩ আসন

২০২২ সালের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোট ৬৪টি আসন পেয়েছিল। এবার তা কমে ৫৩টিতে দাঁড়িয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন থেকে তারা আট আসন পিছিয়ে।
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭ আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় একক দল। আর আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১ আসন।
নেতানিয়াহুর সরকার গঠনের সম্ভাবনা আরও দুর্বল হয়েছে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম তাকে সমর্থন না করায়। দলটি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পরামর্শে নেতানিয়াহু কিংবা অন্য কোনো প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা দেয়নি। তবে ভবিষ্যতে নিজেদের দাবির বিষয়ে সমঝোতা হলে দলটি নেতানিয়াহুকে সমর্থন করতে পারে।

সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন আইজেনকোট

আইজেনকোট সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট গঠনে ব্যর্থ হলে আরব দলগুলোর বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন।
এ ক্ষেত্রে ইয়াশার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে থাকবে, কিন্তু রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট সরকারে যোগ না দিয়েও সংসদে আইন পাস ও সরকার টিকিয়ে রাখতে সমর্থন দিতে পারে।
এর বিনিময়ে আরব দলগুলো বিভিন্ন নীতিগত দাবি বা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের শর্ত দিতে পারে।
২০২১ সালে রা’আম নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিয়েছিল। ইসরায়েলের কোনো স্বতন্ত্র আরব দলের সরকারে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সেটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে ১৮ মাস পর ওই সরকার ভেঙে যায়।

অতি-অর্থডক্স দল নিয়ে আরেক সমীকরণ

আইজেনকোটের সামনে আরেকটি সম্ভাবনা হলো অতি-অর্থডক্স দুই দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমকে জোটে নেওয়া। এই দুই দলের মোট আসন ১৩টি। ফলে তাদের সঙ্গে জোট করতে পারলে আইজেনকোটের চারদলীয় ৪৮ আসনের সঙ্গে মোট আসন দাঁড়াবে ৬১টি—সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
তবে এ ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীতে অতি-অর্থডক্স ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতির বিষয়টি বড় বাধা হতে পারে। আইজেনকোট ও তার মিত্রদের অনেকেই এ ধরনের ছাড়ের বিরোধিতা করেছেন।
ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম নেতানিয়াহুকে সমর্থন করেনি। তবে শাস নেতানিয়াহুর পাশে রয়েছে।

নেতানিয়াহুকে নিয়েও হতে পারে ঐক্য সরকার

আরেকটি সম্ভাবনা হলো আইজেনকোট, বেনেট, লিবারম্যান ও নেতানিয়াহুর লিকুদকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন। এ ধরনের জোটের হাতে ৬৭টি আসন থাকবে।
তবে এতে আইজেনকোট ও তার মিত্রদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বড় অংশ ভঙ্গ করতে হবে। কারণ তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো।
আইজেনকোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট হারজগ নেতানিয়াহুকেও সরকার গঠনের সুযোগ দিতে পারেন। উভয় নেতা ব্যর্থ হলে পার্লামেন্ট অন্য কোনো প্রার্থীকে মনোনীত করতে পারে। প্রায় ১০০ দিনের প্রক্রিয়ার পরও সরকার গঠন সম্ভব না হলে ইসরায়েলে আবার নির্বাচন হতে পারে।

সরকার বদলালেও ফিলিস্তিন নীতিতে বড় পরিবর্তন নাও আসতে পারে

বিশ্লেষকদের মতে, আইজেনকোট সরকার গঠন করতে পারলে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে নেতানিয়াহু সরকারের বিচার বিভাগীয় সংস্কারের কিছু পদক্ষেপ বাতিল হতে পারে।
কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের আইন অধ্যাপক নেভ গর্ডনের মতে, আইজেনকোট সরকার গঠন করতে পারলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের পদ্ধতিসহ বিচার বিভাগীয় সংস্কারের কিছু আইন বাতিল করার উদ্যোগ নিতে পারেন।
এ ছাড়া ৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে স্বাধীন তদন্ত এবং গুরুতর অপরাধে বিচারাধীন কোনো রাজনীতিকের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ বন্ধে নতুন আইন করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন তিনি। কারণ আইজেনকোটের সম্ভাব্য জোটেও ডানপন্থি দলগুলোর প্রভাব রয়েছে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাদের বিরোধিতা রয়েছে।
আইজেনকোট নিজেও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণাকে সমর্থন করেননি এবং অবৈধ বসতি শক্তিশালী করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
ফলে নেতানিয়াহু সরকারের পতন ঘটলেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের নীতিতে পরিবর্তন কতটা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
মেটা টাইটেল: ইসরায়েলে সরকার গঠনের কঠিন সমীকরণে আইজেনকোট
মেটা ডেসক্রিপশন: নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর ইসরায়েলের সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন গাদি আইজেনকোট। তবে বিরোধী জোটে মতবিরোধ ও আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে জটিলতায় পড়েছেন তিনি।
SEO Keywords: গাদি আইজেনকোট, ইসরায়েল সরকার, নেতানিয়াহু, ইসরায়েল নির্বাচন ২০২৬
হ্যাশট্যাগ: #ইসরায়েল #আইজেনকোট #নেতানিয়াহু #অধিকারপত্র