02/05/2026 আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতার লাশ পোড়ানোর সেই বীভৎস ঘটনায় ঐতিহাসিক রায়! সাবেক এমপিসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন
odhikarpatra
৫ February ২০২৬ ১৬:২৪
মূল প্রতিবেদন: অধিকারপত্র ডটকম নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ ভ্যানে তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার নারকীয় ঘটনায় বিচার সম্পন্ন হলো।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যারা: আদালত এই মামলায় সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ছাড়াও আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক এসআই আবদুল মালেক, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা রনি ভূঁইয়াকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন।
যাবজ্জীবন ও অন্যান্য সাজা: সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক এসপি মো. আসাদুজ্জামান রিপন এবং আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল কাফীসহ মোট ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাবেক দুই এসআই আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসানকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মামলার একমাত্র রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হককে আদালত খালাস দিয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: প্রসিকিউশন জানায়, ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যার পর তাদের লাশ একটি ভ্যানে স্তূপ করে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই বর্বরোচিত দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। ট্রাইব্যুনাল এই ঘটনাকে মানবতার বিরুদ্ধে চরম অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এই রায় ঘোষণা করেন।
এটি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত তৃতীয় রায়। প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও তার দল।