05/09/2026 ভরাডুবির পর তৃণমূলে ক্ষোভ: অভিষেক ব্যানার্জি ও আইপ্যাকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
odhikarpatra
৮ May ২০২৬ ২৩:৫৯
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দলের একাধিক নেতা-কর্মী প্রকাশ্যে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee ও রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইপ্যাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
কেউ অভিযোগ করছেন, অভিষেক ব্যানার্জি দলকে “তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছেন”, আবার কেউ বলছেন কর্পোরেট ধাঁচে দল পরিচালনার কারণে সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগও উঠেছে দলের ভেতর থেকেই। একই সঙ্গে অভিনেতা, ক্রীড়াবিদ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একাধিক প্রার্থী রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকাশ্যে দলবিরোধী মন্তব্য করায় কয়েকজন নেতা ও মুখপাত্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক হেভিওয়েট নেতা পরাজিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee, অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, নারী ও শিশু কল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজা এবং ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
মালদার প্রবীণ নেতা ও সাবেক পর্যটনমন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী সংবাদমাধ্যমে সরাসরি অভিষেক ব্যানার্জিকে দায়ী করে বলেন, “একজনই ব্যক্তি আছেন যিনি দলটিকে তিলে তিলে শেষ করে দিলেন। তিনি অভিষেক ব্যানার্জি। বাংলার রাজনীতিতে কর্পোরেট কায়দায় দল চালানো যায় না।”
তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা অতীন ঘোষও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে মানুষের “পালস” বোঝা যায় না। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, দলের একাংশ সরাসরি আইপ্যাকের বিরুদ্ধে ‘মাতব্বরি’র অভিযোগ তুলেছে। প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায় অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের পর থেকেই আইপ্যাক দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তার ভাষায়, “ওরা এসি গাড়িতে ঘুরে বেড়াত, মানুষের সঙ্গে মিশত না। প্রার্থী থেকে কর্মসূচি—সব ঠিক করত আইপ্যাক।”
তিনি আরও দাবি করেন, পুরোনো কর্মীদের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন বণ্টনের সংস্কৃতি তৈরি হয়।
এর আগে তৃণমূলের আরও কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছিলেন, আইপ্যাককে টাকা দিতে না পারায় তারা মনোনয়ন পাননি। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আইপ্যাকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ক্রীড়া দপ্তরের সাবেক প্রতিমন্ত্রী Manoj Tiwaryও দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে প্রতিমন্ত্রী করা হলেও কার্যত কোনো কাজ করতে দেওয়া হয়নি।
এদিকে ব্যারাকপুরের পরাজিত প্রার্থী ও চলচ্চিত্র পরিচালক Raj Chakraborty রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “২০২৬-এর সঙ্গে শেষ হলো আমার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা।”
শিলিগুড়ির পরাজিত প্রার্থী গৌতম দেব অবশ্য প্রকাশ্যে দলের সমালোচনা না করলেও নির্বাচনী কৌশলে ত্রুটির ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে যে প্রকাশ্য অসন্তোষ সামনে এসেছে, তা দলটির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।