05/14/2026 পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যেতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
odhikarpatra
১৪ May ২০২৬ ১২:১৯
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী পুনরুজ্জীবন, কৃষি সেচ, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং পানি সংরক্ষণে বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। প্রায় দুই দশমিক এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারাজে রাখা হবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস এবং দুটি ফিশ পাস।
স্পিলওয়ে হচ্ছে এমন একটি বিশেষ কাঠামো, যার মাধ্যমে ব্যারাজের অতিরিক্ত পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে বের করে দেওয়া হয়। আর আন্ডার স্লুইস ব্যবহার করা হবে পানির প্রবাহ ও পলি ব্যবস্থাপনার জন্য।
কর্মকর্তাদের আশা, এই ব্যারাজের মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সংরক্ষিত পানি বণ্টনের জন্য নির্মাণ করা হবে তিনটি অফটেক অবকাঠামো। নদীর পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের জন্য নির্মিত বিশেষ ব্যবস্থাকেই অফটেক অবকাঠামো বলা হয়।
প্রকল্পের প্রথম ধাপে গড়াই-মধুমতী নদীতে ১৩৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং হিসনা নদীতে ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার পুনঃখনন ও ড্রেজিং করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপে চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকার বলছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে গড়াই-মধুমতি, হিসনা-মাথাভাঙ্গা, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ব্যারাজের মাধ্যমে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে শুষ্ক মৌসুমে সংশ্লিষ্ট নদীগুলোতে প্রায় ৮০০ কিউসেক পানি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই পানি ব্যবহার করে যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পিরোজপুর অঞ্চলের প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া যাবে বলে প্রকল্প নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে অতিরিক্ত প্রায় ২৪ লাখ টন ধান এবং প্রায় সোয়া দুই লাখ টন মাছ উৎপাদন সম্ভব হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার কমবে। এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে এবং সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে।
এছাড়া গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্প, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প, গোদাগাড়ী পাম্প হাউস এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করাও সহজ হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৩ সালের পর দ্বিতীয় ধাপে ব্যারাজ ঘিরে তিনটি পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি গড়ে তোলা হবে সাতটি স্যাটেলাইট শহর।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সবমিলিয়ে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার আর্থ-সামাজিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
#পদ্মা_ব্যারাজ #নদী_পুনরুদ্ধার #সেচ_প্রকল্প #দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চল #সুন্দরবন #পানি_সংরক্ষণ #বাংলাদেশ
পদ্মা ব্যারাজ, স্পিলওয়ে, আন্ডার স্লুইস, অফটেক অবকাঠামো, নদী পুনঃখনন, গড়াই-মধুমতী, হিসনা নদী, সেচ প্রকল্প, সুন্দরবন, লবণাক্ততা, পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র