06/01/2026 ‘এটি বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা’: ইসরায়েলের নতুন মৃত্যুদণ্ড আইন নিয়ে সমালোচনার ঝড়
odhikarpatra
৩১ May ২০২৬ ০৬:১৮
প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অধিকার পত্র ডেস্ক: ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য নতুন মৃত্যুদণ্ড আইন পাসের পর ইসরায়েলকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, নতুন আইনটি কার্যত শুধু ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করেই তৈরি করা হয়েছে এবং এটি ইসরায়েলের বিচারব্যবস্থায় বৈষম্যকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।
ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, অধিকৃত পশ্চিম তীরে সামরিক আদালতের আওতায় মূলত ফিলিস্তিনিরাই বিচারাধীন হওয়ায় আইনটি বাস্তবে তাদের বিরুদ্ধেই প্রয়োগ হবে।
আইনটি পাস হওয়ার পর উগ্র ডানপন্থী ইসরায়েলি নেতাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক এ আইনকে “গভীরভাবে বৈষম্যমূলক” বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রয়োগ করা হলে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, আইনের ভাষা ও কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি প্রধানত, এমনকি প্রায় একচেটিয়াভাবে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। সংগঠনটির মতে, এটি বিচারব্যবস্থায় দুই ধরনের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করছে।
আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা শাস্তির ব্যবস্থা করায় অনেক অধিকারকর্মী ও বিশ্লেষক এই আইনকে “এপার্টহেইড ব্যবস্থার” অংশ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ইসরায়েলে দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈষম্যমূলক নীতির ধারাবাহিকতায় এটি নতুন সংযোজন।
এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেতা ও সংস্থা আইনটির নিন্দা জানিয়েছেন। অনেকের মতে, এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করবে এবং ফিলিস্তিনি-ইসরায়েল সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে।