06/06/2026 ধেয়ে আসছে প্রলয়ংকরী 'গডজিলা' এল নিনো: ওলটপালট হতে পারে বিশ্ব
Special Correspondent
৫ June ২০২৬ ২২:৫০
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
জলবায়ু পরিবর্তনের চলমান সংকটের মাঝেই বিজ্ঞানীরা এক নতুন ও ভয়াবহ সতর্কর্তা জারি করেছেন। ধেয়ে আসছে এক প্রলয়ংকরী বা "সুপার" এল নিনো (El Niño), যাকে আবহাওয়াবিদেরা আখ্যা দিচ্ছেন 'গডজিলা এল নিনো' নামে। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এবং এই সুপার এল নিনোর যৌথ প্রভাবে আগামী ২০২৭ সাল হতে পারে ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত বছর। তবে গবেষকেরা বলছেন, এল নিনো কেবলই কোনো সাধারণ আবহাওয়াগত বা জলবায়ু পরিবর্তনের গল্প নয়। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, পর্যায়ক্রমিক এই আবহাওয়া বিন্যাস বারবার বিশ্বরাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে যার ফলে অতীতে ঘটেছে দুর্ভিক্ষ, বিপ্লব, এমনকি প্রভাবিত হয়েছে স্নায়ুযুদ্ধের (Cold War) মতো বড় বড় বৈশ্বিক ঘটনাও।
জলবায়ু ছাড়িয়ে ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন
সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক ইতিহাসের অধ্যাপক ও বিখ্যাত ইতিহাসবিদ পিটার ফ্রাঙ্কোপান এক সাক্ষাৎকারে এল নিনোর এই ঐতিহাসিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর আলোকপাত করেছেন। তাঁর মতে, এল নিনো কেবল বৃষ্টিপাত বা খরা তৈরি করে না, এটি সরাসরি মানব সভ্যতার অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থাকে আঘাত করে। ইতিহাসে দেখা গেছে, এল নিনোর প্রভাবে যখন কোনো অঞ্চলে তীব্র খরা বা অনাবৃষ্টির কারণে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, তখন খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষ চরম আকার ধারণ করে। এই খাদ্য সংকটই পরবর্তীতে গণ-অসন্তোষ তৈরি করে, যা বড় বড় সাম্রাজ্যের পতন এবং রাজনৈতিক বিপ্লবের পথ সুগম করেছে। এমনকি বিংশ শতকের স্নায়ুযুদ্ধের সময়েও বিভিন্ন দেশের খাদ্য উৎপাদন ও কৌশলগত সিদ্ধান্তকে নীরবে প্রভাবিত করেছিল এই এল নিনো।
কেন একে 'গডজিলা এল নিনো' বলা হচ্ছে?
সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'এল নিনো' বলা হয়। তবে এবারের এল নিনোটিকে 'সুপার' বা 'গডজিলা' বলা হচ্ছে এর তীব্রতা ও সম্ভাব্য বিধ্বংসী ক্ষমতার কারণে।
রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা: বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, ২০২৭ সালে এটি বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে যা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে।
চরম আবহাওয়ার পূর্বাভাস: এর ফলে বিশ্বের এক প্রান্তে যেমন নজিরবিহীন খরা ও দাবানল দেখা দেবে, অন্য প্রান্তে তেমনই দেখা দেবে ভয়াবহ বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস।
খাদ্য ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি: এশিয়ার প্রধান চাল উৎপাদনকারী দেশগুলো এবং লাতিন আমেরিকার কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলো এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা নতুন করে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি ডেকে আনবে।
সম্মিলিত প্রস্তুতির আহ্বান
অধ্যাপক পিটার ফ্রাঙ্কোপান সতর্ক করে বলেন, অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এখনই সম্মিলিতভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। এটি কেবল কোনো একক দেশের দুর্যোগ নয়, বরং একটি বৈশ্বিক সংকট। জলবায়ুর এই চরম বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, খাদ্য মজুত ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দ্রুত সাড়াদান তহবিল গঠন করা না হলে, বিশ্বকে আরও একটি বড় ধরনের মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র