06/11/2026 স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ, নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত ইসির
odhikarpatra
১০ June ২০২৬ ২১:৩০
প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬ বিশেষ প্রতিবেদক অধিকারপত্র ডটকম :
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা থাকলে যে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নতুন বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির সভাপতি নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “কোনো দলকে বাদ দেওয়ার মতো কোনো বিধান আচরণবিধিতে রাখা হয়নি। প্রার্থী হওয়ার যোগ্য যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।”
ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালায় সংশোধনী আনা হয়েছে। পরবর্তীতে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিধিমালা কার্যকর করা হবে।
বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হলেও ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আইন সংশোধন করে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করে। তবে ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন অধ্যাদেশ জারি করে দলীয় প্রতীকের বিধান বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদেও নির্দলীয় নির্বাচনের বিধান বহাল রেখে আইন পাস করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত করা খসড়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের জন্য খসড়া বিধিমালা কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। পরে দলগুলোর মতামত গ্রহণ ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
প্রাথমিক খসড়ায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছ থেকে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার প্রস্তাব ছিল। সেখানে উল্লেখ ছিল যে, তারা কোনো নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তবে চূড়ান্ত বিধিমালায় সেই শর্ত রাখা হয়নি।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আমরা দেখবো না তিনি কোন দল করেন। তিনি যদি প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন, তাহলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, “তিনি হিন্দু না মুসলমান, নারী না পুরুষ কিংবা কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না—এসব বিবেচ্য বিষয় নয়। আইনি যোগ্যতা থাকলেই তিনি নির্বাচন করতে পারবেন।”
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেহেতু নির্দলীয়ভাবে হবে, তাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বিবিসি বাংলাকে বলেন, দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি জানান, কর্মী-সমর্থকদের মধ্য থেকে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল এখনও ঘোষণা না হলেও বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে এলাকায় প্রচারণা শুরু করেছেন।
নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান, তাহলে ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীমের মতে, জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেই সুযোগ তৈরি হলে ভোটের হিসাব-নিকাশ নতুনভাবে নির্ধারিত হতে পারে।
তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন কাগজে-কলমে নির্দলীয় হলেও বাস্তবে তা দলীয় রূপ নেয়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারলে এটি দলটির জন্য রাজনৈতিকভাবে পুনরুজ্জীবনের একটি বড় সুযোগ হতে পারে।”
বিবিসি বাংলা হতে অনুপানিত,