06/12/2026 সালমান শাহর লাশ উত্তোলন নিয়ে যা বললেন তার মা
odhikarpatra
১১ June ২০২৬ ২১:০৭
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬
বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ-এর মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে আদালতের এ নির্দেশে সন্তুষ্ট নন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ সিদ্ধান্তকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছেন।
নীলা চৌধুরী বলেন, দ্বিতীয়বার যে ময়নাতদন্ত করা হয়েছিল সেখানে উল্লেখ ছিল যে চিকিৎসক, সাধারণ মানুষ, পুলিশ ও সাংবাদিকরা মরদেহ দেখেছেন এবং তা ঠিক ছিল। অথচ অন্যদিকে মরদেহ পচে গিয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার দাবি, এসব তথ্যের মধ্যেই অসঙ্গতি রয়েছে এবং সেখান থেকেই হত্যার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ কোনো সমাধান করতে পারেনি বলেই পরে মামলাটি সিআইডির কাছে দেওয়া হয়। সিআইডির তদন্তের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে অতীতে দুইবার মরদেহ উত্তোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, উভয়বারই মরদেহের অবস্থা স্বাভাবিক ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা দেখেছেন।
সালমান শাহর মা আরও অভিযোগ করেন, অতীতের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত নিয়ে নানা ধরনের চাপ ও অনিয়ম ছিল। তবে আদালতের নির্দেশের বিষয়ে তিনি বলেন, আগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পেলে সেটির জবাব দেবেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তিনি তার অবস্থান তুলে ধরবেন।
তার ভাষ্য, আদালত ইতোমধ্যে এটি হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়েও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। এখন অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
গত ২৪ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকার বাসায় অসুস্থ অবস্থায় সালমান শাহকে পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয় এবং পরে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়।
২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তার মামা আলমগীর কুমকুম। মামলায় প্রথম আসামি করা হয় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক-কে। এছাড়া ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, অভিনেতা ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসা থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় তিন দশক ধরে ঘটনাটি অপমৃত্যু মামলা হিসেবে তদন্তাধীন ছিল। পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এটি আত্মহত্যা বলে মতামত দেয়।
#সালমানশাহ #নীলাচৌধুরী #সালমানশাহহত্যামামলা #বাংলাদেশচলচ্চিত্র #বিনোদন