06/14/2026 ১৪ মাস ধরে বন্ধ শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন, ঝুঁকিতে কোটি শিশু
odhikarpatra
১৩ June ২০২৬ ২১:২৮
অধিকারপত্র ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬
বাংলাদেশে শিশুদের জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন ১৪ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ক্যাপসুল সংকটের কারণে গত বছরের মার্চের পর নির্ধারিত সময়ে আর এই কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার এই ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর এবং ২০২৬ সালের মার্চের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়নি।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল আনার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর দাবি, ১৫ জুনের মধ্যে ক্যাপসুল দেশে পৌঁছাতে পারে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৭ জুনের মধ্যে জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। ছয় থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ক্যাপসুল দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার প্রথমবারের মতো ইউনিসেফের মাধ্যমে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক রাউন্ডের ক্যাপসুল কেনা হলে আরেক রাউন্ডের ক্যাপসুল বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।
এর আগে দরপত্রের মাধ্যমে ক্যাপসুল কেনা হলেও সর্বশেষ টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যায়। পরে ইউনিসেফের সহায়তায় নতুন ব্যবস্থায় ক্যাপসুল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সেই প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় জাতীয় কর্মসূচিটিও পিছিয়ে গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এতে হাম, ডায়রিয়া, অপুষ্টি ও রাতকানাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, একসময় বাংলাদেশে রাতকানা রোগ ছিল বড় সমস্যা। নিয়মিত ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে রোগটি কার্যত নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই কর্মসূচি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আবারও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন-এ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর প্রধান উপকারিতাগুলো হলো—
জাতীয় পুষ্টি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতি দুই শিশুর একজন ভিটামিন-এ ঘাটতিতে ভুগছে। ফলে জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন নিয়মিত চালু রাখা শিশুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।