06/15/2026 হাতিয়ায় ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম প্রত্যাহার
odhikarpatra
১৪ June ২০২৬ ২২:৩১
প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬ | অধিকারপত্র ডেস্
নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ওঠার পরপরই এক প্রশাসনিক আদেশে তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করে প্রাথমিকভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্ত কেন্দ্রের মেসে যাতায়াত ও ক্ষমতার অপব্যবহার
ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি ও পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, শিশুটির মা ও ভাই দীর্ঘদিন ধরে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করে আসছিলেন। সেই সুবাদে শিশুটিরও ওই তদন্ত কেন্দ্রে নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম শিশুটিকে বিভিন্ন সময়ে ফুসলিয়ে বা জোরপূর্বক তার বাসায় ডেকে নিতেন। সেখানে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে পরিবার দাবি করেছে।
ভয়ভীতি প্রদর্শন ও টাকার প্রলোভন
ভুক্তভোগীর পরিবার আরও অভিযোগ করে, ঘটনাটি যাতে বাইরে প্রকাশ না পায়, সেজন্য অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটিকে প্রতিনিয়ত নানা হুমকি দিতেন। পাশাপাশি মুখ বন্ধ রাখার বিনিময়ে বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রলোভনও দেখানো হতো। পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এতদিন তারা বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে জানান
ওসির বক্তব্য
"অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
মোহাম্মদ কবির হোসেন**, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), হাতিয়া থানা।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
এদিকে একজন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন জঘন্য অপরাধের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাতিয়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা হিমেল জানান, এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রতিবেশীরা অনতিবিলম্বে ঘটনার একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত খোরশেদ আলমের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর আইনগত শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।