06/26/2026 প্রতিহিংসা থেকে নিয়োগ বাতিল ও বেতন ফেরত চাওয়া হয়েছে: ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ
Special Correspondent
২৫ June ২০২৬ ২২:৫৫
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্রর
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক (আজীবন) পদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই পদে থাকাকালীন গত দুই বছর ধরে তাঁর উত্তোলিত সব বেতন-ভাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ জুন (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আজ ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানা গেছে।
নিয়োগ বাতিলের কারণ ও বিধিবহির্ভূত সিদ্ধান্ত
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৯তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯২তম বাজেট অধিবেশন সভায় আলোচ্যসূচির বাইরে গিয়ে একজন সদস্যের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ’ সংশোধন করা হয়েছিল। এরপর একই সভায় সংশোধিত অধ্যাদেশের সুযোগ নিয়ে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহকে আজীবন মেয়াদে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ছিল সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত। একই সিন্ডিকেটে অধ্যাদেশ সংশোধন এবং সেই অনুযায়ী নিয়োগ অনুমোদন করা যায় না বিধায়, ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে কার্যকর হওয়া তাঁর এই আজীবন নিয়োগটি বাতিল ঘোষণা করা হলো।
ডা. আবদুল্লাহ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমি ৫০ বছর চিকিৎসা পেশায় এবং প্রায় সমসাময়িক সময় চিকিৎসা শিক্ষায় নিয়োজিত আছি। মনপ্রাণ দিয়ে মানুষের সেবা করেছি এবং আমার লেখা বই দেশে-বিদেশে পাঠ্য। আমাকে যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই সম্মান দেওয়া হয়েছিল। প্রতিহিংসা থেকে আমার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে, তারা এমনটা করতে পারে না। বিশেষ করে বেতন ফেরত চেয়ে তারা সবচেয়ে নিচু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেওয়া ডা. আবদুল্লাহ পরবর্তীতে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞের নিয়োগ বাতিল এবং দীর্ঘ দুই বছরের অর্জিত সুযোগ-সুবিধা ও বেতন-ভাতা ফেরতের এই নজিরবিহীন নির্দেশনা চিকিৎসা ও শিক্ষা অঙ্গনে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একে ‘আইনি ও প্রশাসনিক বিধিবহির্ভূত’ সিদ্ধান্তের সংশোধন হিসেবে দাবি করলেও, ডা. আবদুল্লাহর মতে এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। এই ঘটনার জল কতদূর গড়ায় এবং এর কোনো আইনি বা প্রশাসনিক পুনর্বিবেচনা আসে কিনা, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র