07/01/2026 ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি স্বস্তি: এলো আরও ৮ হাজার টন ডিজেল
Special Correspondent
৩০ June ২০২৬ ২২:৪০
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্রর
ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে আরও ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পৌঁছেছে। সোমবার (২৯ জুন) ডিপোর রিসিভিং টার্মিনালে এই জ্বালানি গ্রহণ করা হয়। এই চালানের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় এই পাইপলাইন দিয়ে নিয়মিত ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। পাইপলাইন চালুর ফলে জ্বালানি পরিবহনে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও নিরাপদ ও কার্যকর হয়েছে।
চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা ও অগ্রগতি
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ভারত থেকে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ চালানসহ এ পর্যন্ত প্রায় ৭৯ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে এসে পৌঁছেছে।
উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রভাব
পার্বতীপুর ডিপো থেকে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির মাধ্যমে ট্যাংক-লরিযোগে রংপুর বিভাগসহ উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলায় এই ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমন মৌসুমের সেচ চাহিদা এবং কৃষি উৎপাদনের ভরা মৌসুমে এই জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রংপুর বিভাগীয় ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান জানান, পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত ডিজেল পাওয়ায় এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা অনেকটাই দূর হয়েছে। এর ফলে পরিবহন ব্যবস্থায় গতি ফেরার পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বেড়েছে। দিনাজপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল বলেন, কৃষিনির্ভর উত্তরাঞ্চলে সময়মতো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। এটি একদিকে যেমন কৃষকদের উৎপাদন খরচ ও অনিশ্চয়তা কমাবে, অন্যদিকে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন প্রকল্পটি শুধু জ্বালানি নিরাপত্তা নয়, বরং কৃষি ও পরিবহনের মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আধুনিক এই পরিবহন ব্যবস্থা ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি আমদানি প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র