07/08/2026 নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের মারধরে পুরস্কার ঘোষণা: থানায় অভিযোগ
Special Correspondent
৭ July ২০২৬ ১৮:১৫
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মারধর করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অর্থ পুরস্কার ঘোষণার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে নড়াইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নড়াইল জেলা শাখার সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম।
সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর থানায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা ও আহত যোদ্ধাদের মারধর করতে পারলে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কারের ঘোষণা দেয়। এ ছাড়া অভিযুক্তরা বিভিন্ন উসকানিমূলক লেখালেখি ও ভুয়া ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ১১ জন হলেন— বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ নড়াইল শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমান নয়ন, সহসভাপতি সৌরভ কর্মকার, লোহাগড়া উপজেলার সজিবুল ইসলাম হৃদয়, শাহাদাত হোসেন রায়হান, ইমন শিকদার, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. মিলন জমাদ্দার, মো. ইস্রাফিল, মো. সজীব চৌধুরী, এস কে আসলাম, মো. আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস এবং মো. জুবায়ের শেখ।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই মাস আসায় একটি বিশেষ গোষ্ঠী পাগল হয়ে গেছে। বিদেশে বা আত্মগোপনে থেকে তারা আমাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে এবং পুরস্কার ঘোষণা করছে। আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আশা করি প্রশাসন তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনবে। যদি ন্যায়বিচার না পাই, তবে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।’
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন, মো. আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি অভিযোগকারী বা তালিকায় থাকা অধিকাংশ ব্যক্তিকেই চিনি না। এটি আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার একটি অপচেষ্টা। আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাই।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার জানিয়েছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র