07/14/2026 বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গ হওয়া ডাচ রেফারি রব ডিপেরিঙ্কের রহস্যজনক মৃত্যু
Special Correspondent
১৪ July ২০২৬ ০০:০০
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ আর মিথ্যা অপবাদের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই চিরবিদায় নিলেন নেদারল্যান্ডসের পরিচিত ফুটবল রেফারি রব ডিপেরিঙ্ক। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে নেদারল্যান্ডসের বোরকুলোর নিজ বাসা থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো ফুটবল বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রেফারি ডিপেরিঙ্কের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএনভিবি)। এক শোকবার্তায় সংস্থাটি জানায়, ‘রেফারি রব ডিপেরিঙ্কের মৃত্যুর খবরে আমরা স্তম্ভিত এবং গভীরভাবে শোকাহত। ফুটবল অঙ্গন একজন আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দক্ষ রেফারিকে হারাল। তার চেয়েও বড় কথা, আমরা হারালাম একজন অসাধারণ ও নিবেদিতপ্রাণ সহকর্মীকে।’
উল্লেখ্য, গত দুদিন আগেও তিনি গো অ্যাহেড ইগলস এবং আপোলন লিমাসলের মধ্যকার একটি প্রীতি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন। সেটিই ছিল তার জীবনের শেষ ম্যাচ।
ডিপেরিঙ্কের ক্যারিয়ারে বড় ধরনের ধাক্কা আসে গত এপ্রিল মাসে। লন্ডনের একটি হোটেলে এক কিশোরকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ব্রিটিশ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগের পরপরই ফিফা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে বিশ্বকাপের রেফারিং প্যানেল থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে।
তবে ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর ব্রিটিশ পুলিশ জানায়, অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। এর প্রেক্ষিতে মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হয় এবং ডিপেরিঙ্কের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ করা হয়।
তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও ফিফা তাকে বিশ্বকাপের রেফারিং প্যানেলে পুনর্বহাল করেনি। এই সিদ্ধান্তে ভেঙে পড়েছিলেন ডিপেরিঙ্ক। মৃত্যুর আগে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছিলেন, ‘মিথ্যা এই অভিযোগ আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টের ছিল। আমি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছি। লন্ডন থেকে মামলা খারিজ হওয়ার পরও ফিফা আমাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছে, যা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।’
২০১৭ সাল থেকে ডাচ লিগ ‘এরেডিভিসি’-তে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসা ডিপেরিঙ্ক মোট ৮৪টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এছাড়া ২০২৪ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) হিসেবেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি।
তদন্ত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তার পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং তাকে স্থানীয় লিগে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাঠের সেই চেনা মানুষটি অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন। তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের ডালপালা মেলছে ক্রীড়াঙ্গনে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র