08/03/2026 পুলিশ সদস্যদের সতর্কবার্তা কেন, ব্যাখ্যা দিলেন ডিবি প্রধান
odhikarpatra
২ August ২০২৬ ২৩:৪২
অধিকারপত্র ডটকম ০২ আগস্ট ২০২৬ |
প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: রাজধানীতে সাম্প্রতিক বোমা-আতঙ্ক ও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনাগুলোর পর পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হলেও এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো গোয়েন্দা তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
রোববার (২ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো তথ্যের ভিত্তিতে নয়, বরং পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও সতর্ক থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দিতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট কোনো গোয়েন্দা তথ্য নেই। তবে আমরা সব সময় সতর্ক থাকি। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যরা যেন আরও সতর্ক থাকেন, সে জন্যই এই রিমাইন্ডার দেওয়া হয়েছে।”
এর আগে শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স কন্ট্রোল রুম থেকে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় পুলিশের জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়। বার্তায় সম্ভাব্য নাশকতার ঝুঁকি বিবেচনায় যানবাহন নিরাপদ স্থানে রাখা, নিয়মিত টহল ও সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।
এ বিষয়ে ডিবি প্রধান বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তার পাশাপাশি পুলিশের নিজস্ব স্থাপনা ও যানবাহনের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বোমা-সংক্রান্ত ঘটনা এবং বিভিন্ন গুজবের প্রেক্ষাপটে সদস্যদের আরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অতীতেও এ ধরনের সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সত্য ও গুজব মিলিয়ে কিছু ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হওয়ায় এটি মূলত একটি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ।
মতিঝিলে উদ্ধার হওয়া ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটির তদন্ত করছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। পাশাপাশি ডিবিও ছায়া তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
ঘটনার সঙ্গে কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা সাধারণত এককভাবে সংঘটিত হয় না। কোনো না কোনো উদ্দেশ্য বা মতাদর্শ প্রচারের লক্ষ্যেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর থেকে আইইডি উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা হয়। পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে একটি সন্দেহজনক বস্তা ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও সেখানে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। পরে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করা হয়। সর্বশেষ শনিবার মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে পাওয়া দুটি সন্দেহজনক ব্যাগ ও বস্তা পরীক্ষা করে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল জানায়, সেগুলোতে কোনো বিস্ফোরক ছিল না।