08/05/2026 সৌদিতে কফিল আকামা নবায়ন না করলেও অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে নবায়নের সুযোগ
odhikarpatra
৫ August ২০২৬ ০০:০০
অধিকারপত্র ডটকম, নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | ৪ আগস্ট ২০২৬
সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুখবর এসেছে। এখন থেকে কোনো কারণে মূল নিয়োগকর্তা (কফিল) আকামা নবায়ন না করলে, অন্য কোনো নিয়োগকর্তার অধীনে দ্রুত আকামা নবায়নের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি কর্মীরা। এতে কোনো আইনগত বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ তথ্য জানান সৌদি আরবের ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সৌদির ডেপুটি মিনিস্টার অব ফরেন কনস্যুলার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে শ্রমবাজারে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ গৃহকর্মী নিয়োগ চুক্তি, শ্রম দক্ষতা যাচাইকরণ (এসভিপি) চুক্তি এবং সাধারণ কর্মী নিয়োগ চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি যৌথ কমিশন ও যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে দেশে একটি ‘সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। এতে আরবি ভাষা শিক্ষা, সৌদি আইন, সংস্কৃতি, রীতিনীতি এবং গমনপূর্ব প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়।
এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও হসপিটালিটি খাতে দক্ষ কর্মী নিয়োগ সহজ করতে কারিগরি ও পেশাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতির একটি কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ।
বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট ও আকামা সময়মতো ইস্যু ও নবায়ন নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে বাড়তি ওয়ার্ক পারমিট ফি দেখিয়ে কিছু নিয়োগকর্তার বিলম্বের বিষয়টি সমাধানে সৌদি সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীরা সৌদি আরবের উন্নয়নের পাশাপাশি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
তিনি আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আরবি ভাষায় দক্ষ হওয়ায় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের জন্যও সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ২০৩৪ সালের সৌদি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নারী গৃহকর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশের প্রস্তাবের জবাবে সৌদির ডেপুটি মিনিস্টার মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি ও হসপিটালিটি খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী নিয়োগে সৌদি আরব আগ্রহী। তিনি জানান, কর্মীদের সুরক্ষায় ইতোমধ্যে ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম ও বীমা সুবিধা চালু রয়েছে।
এছাড়া সৌদি কারাগারে আটক বাংলাদেশি কর্মীদের তথ্য কূটনৈতিক মাধ্যমে পাঠানো হলে সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি সৌদি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।