08/05/2026 জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
Special Correspondent
৫ August ২০২৬ ১০:৩৫
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত বহুল প্রতীক্ষিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সাবেক সরকারি বাসভবন গণভবনকে রূপান্তর করে গড়ে তোলা এই জাদুঘরের নামফলক উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন এবং জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
উপস্থিত যারা ছিলেন:
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা যাদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বীর শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা তাঁদের বীরাগাথা ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন।
জাদুঘরে যা রয়েছে:
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্যাতন, তৎকালীন দীর্ঘ শাসনামলের দমনপীড়ন এবং ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের নানা ঐতিহাসিক দলিল এই জাদুঘরে স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র ও ভিডিওচিত্র।
দুর্লভ দলিলপত্র ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের তথ্য-উপাত্ত।
শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সামগ্রী।
আন্দোলনের বিভিন্ন ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও অন্যান্য স্মারক।
সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার সময়:
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, উদ্বোধনের দিন ৫ আগস্ট জাদুঘরটি শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথি, বিশেষ করে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীরা অনলাইনে আবেদন বা টিকিট সংগ্রহ করে জাদুঘরটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতন ও দেশত্যাগের পর ঐতিহাসিক এই গণভবনকে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের স্মৃতিবিজড়িত কেন্দ্র হিসেবে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে তা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে চব্বিশের গৌরবময় অধ্যায়টি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করল।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র