08/07/2026 থাইল্যান্ডের স্কুলে কিশোর বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৭, আহত ৩০-এর বেশি
Special Correspondent
৭ August ২০২৬ ১৭:০০
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে নোনথাবুরি প্রদেশের একটি স্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের বন্দুক হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ত্রিশের অধিক মানুষ, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সময় অনুযায়ী শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে নোনথাবুরির ডেবসিরিন স্কুল (Debsirin Nonthaburi School) প্রাঙ্গণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্কুলের ভেতর অতর্কিত গুলি চালাতে শুরু করে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই এক ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। হামলা শেষে সে নিজেই নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মহনন করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্কুল ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালানোর আগে ওই কিশোর নিজ বাড়িতে তার দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করেছিল। পরবর্তীতে পুলিশ তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে। সব মিলিয়ে এই হামলায় ঘাতকসহ মোট আটজনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও স্কুলশিক্ষার্থী রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল (Anutin Charnvirakul) তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, হামলাটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত ছিল এবং এর পেছনে 'সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও পদক্ষেপ' ছিল।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হামলাকারীর এক ঘনিষ্ট বন্ধু জানিয়েছে যে, ওই কিশোর পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদ বা স্ট্রেসে ভুগছিল। হামলাকারীর ব্যবহৃত বন্দুকটি তার দাদার নামে লাইসেন্স করা ছিল। পুলিশ জানায়, হামলার সময় তার কাছে আরও ৩০ রাউন্ডের বেশি তাজা গুলি মজুদ ছিল।
আতঙ্ক ও উদ্ধারকাজ
হঠাৎ গুলির শব্দে পুরো স্কুলজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে অনেক শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে টেবিল-চেয়ারের নিচে লুকিয়ে থাকতে দেখা যায় [cite: অনেকে আবার ভয়ে স্কুলের সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে জীবন বাঁচান।
জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে হতাহতদের পরিবারকে সর্বাত্মক সহায়তা এবং মানসিক ট্রমা কাটাতে বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক দল মোতায়েন করা হয়েছে। থাইল্যান্ডে তুলনামূলকভাবে বন্দুকের সহজলভ্যতা থাকলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নির্বিচারে হামলার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এই ঘটনায় পুরো থাইল্যান্ডজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র