09/04/2026 লংমার্চে গাড়ি কমাল ১১ দল, বাধা এলে জনগণই ব্যবস্থা নেবে: এনসিপি
odhikarpatra
৩ September ২০২৬ ২৩:৫৩
জনভোগান্তি কমানো, গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচিতে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে প্রায় এক হাজার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সমন্বয় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন দলটির নেতারা।
এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, জনভোগান্তি নিরসন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতেই তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করছেন। তাঁর অভিযোগ, সরকার জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ চাপে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও জনগণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আখতার হোসেন বলেন, বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে জনগণের বিভিন্ন দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরা হলেও সেগুলো যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। এ অবস্থায় ১১ দলীয় ঐক্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে জনগণের কথা তুলে ধরবে।
তবে সরকারকে এখনো সময় দিতে তাঁরা প্রস্তুত বলেও জানান এনসিপির সদস্যসচিব। তাঁর ভাষ্য, সরকারকে সেই সময় জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, জনভোগান্তি কমানো এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনগণের কাছে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা আরও কমবে।
লংমার্চের রুট ও কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হবে।
পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী সড়কের এক পাশ দিয়ে সারিবদ্ধভাবে লংমার্চের গাড়িগুলো চলবে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, শুরুতে লংমার্চে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার গাড়ি রাখার পরিকল্পনা ছিল। তবে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য তা কমিয়ে প্রায় এক হাজার গাড়িতে নামিয়ে আনা হয়েছে।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী পথসভা হবে। এরপর লংমার্চ চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
সকাল ৯টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের ট্রাকস্ট্যান্ডে প্রথম পথসভা করার কথা রয়েছে। এরপর দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লায় পৌঁছে নূরজাহান হোটেলের বিপরীতে একটি খোলা জায়গায় পথসভা ও মধ্যাহ্ন বিরতি হবে।
এরপর লংমার্চ ফেনীর মহিপালে যাবে। সেখানে বিকেল ৩টার দিকে পথসভা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে মিরসরাই শিল্প এলাকায় আরেকটি পথসভা করার কথা রয়েছে।
সবশেষে লংমার্চ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে রাত ৯টায় বড় সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত পুরো রুটে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কেউ যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপাতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সারজিস আলম বলেন, জনগণের যৌক্তিক দাবি নিয়ে তাঁরা মাঠে নামছেন। লংমার্চে কেউ বাধা দিলে জনগণ নিজেদের অবস্থান থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। কর্মসূচির পুরো পথে এনসিপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির পর রংপুর, সিলেট ও খুলনাতেও লংমার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে এনসিপি। সিলেটের কর্মসূচিতে ট্রেন ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে ঢাকায় একটি মহাসমাবেশের মাধ্যমে ধারাবাহিক কর্মসূচি শেষ করার কথা জানিয়েছে দলটি।