09/09/2026 আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শেখ সেলিম, জয়ের ভূমিকা কাউন্সিলে নির্ধারণ হবে
odhikarpatra
৮ September ২০২৬ ২২:৪৬
শেখ হাসিনা কাউকে দলের নেতৃত্বে চাপিয়ে দিচ্ছেন না উল্লেখ করে আরাফাত বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমানে জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে শেখ সেলিমের নাম সামনে আসছে। কাউন্সিলের মাধ্যমেই দলের নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি নিজের সিদ্ধান্তে কাউকে দলের নেতৃত্বে বসিয়ে দিতেন, তাহলে সেটি গণতন্ত্রবিরোধী হতো। আওয়ামী লীগের নেতা কে হবেন, তা দলের নেতাকর্মীরা কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্ধারণ করেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও বর্তমানে দলটির নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির একটি অংশের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়, শেখ হাসিনার পর জয়ই দলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।
তবে আপাতত তিনি সরাসরি দলের নেতৃত্বে আসছেন না। এ বিষয়ে মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র হিসেবে দলের সর্বস্তরে সজীব ওয়াজেদ জয়ের গ্রহণযোগ্যতা ও আগ্রহ রয়েছে। দেশের ও আওয়ামী লীগের সংকটকালে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। তবে দলের মধ্যে তার ভূমিকা কী হবে, তা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলেই নির্ধারিত হবে।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে শেখ সেলিমের নাম সামনে আসার পর দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তার নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
শেখ সেলিমের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও অতীতের বিভিন্ন বিতর্কও আলোচনায় এসেছে। তবে আরাফাতের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ সেলিম আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও জ্যেষ্ঠ নেতা। শেখ হাসিনা বিভিন্ন সভায় উপস্থিত থাকতে না পারলে সিনিয়র নেতা হিসেবে শেখ সেলিম সেসব সভায় সভাপতিত্ব করছেন।
শেখ সেলিমের নাম সামনে আসার সময়ই শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার কথা বলেছিলেন।
এ বিষয়ে আরাফাত বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ে দলের ভেতরে বিভিন্ন বৈঠক হচ্ছে। তিনি নিজেও অনেক সভায় সভাপতিত্ব করছেন। যেসব সভায় তিনি থাকতে পারছেন না, সেসব সভায় জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে শেখ সেলিম সভাপতিত্ব করছেন।
ফলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলেই তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় পরিবারতন্ত্রের বিষয়টিও সামনে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মজিবর রহমান চৌধুরীর মতে, বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের রাজনীতিতে পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের যে দীর্ঘদিনের চর্চা রয়েছে, সেখান থেকে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির মতো বড় দলগুলোর বের হয়ে আসা কঠিন।
তার মতে, আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, বর্তমান বাস্তবতা ও নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা বিবেচনায় শেখ সেলিম হয়তো দলের নেতৃত্বের জন্য সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি নন। তবে একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা।
বিশ্লেষকের মতে, শেখ হাসিনা এখন পর্যন্ত নতুন কারও হাতে দলের সভাপতির দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি।
সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের কাউন্সিল, সাংগঠনিক বাস্তবতা এবং শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান—এই তিনটি বিষয়ই আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিবিসি বাংলা হতে