09/10/2026 ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট
Special Correspondent
১০ September ২০২৬ ১৮:১৫
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। একই সঙ্গে কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটের রুল খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
আদালতের এ রায়ের ফলে এনবিআরের দাবি করা ওই অর্থ পরিশোধের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। তবে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
তিন বছরের মধ্যে কর পরিশোধের নির্দেশ
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের জন্য তিন বছর সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে এনবিআরের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ করতে হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল। আদালতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল।
পাঁচ করবর্ষের কর নিয়ে বিরোধ
এনবিআরের সঙ্গে গ্রামীণ কল্যাণের এই কর-সংক্রান্ত বিরোধের সূত্রপাত কয়েক বছর আগে। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য প্রতিষ্ঠানটির কাছে বিপুল পরিমাণ কর দাবি করে এনবিআর।
এনবিআরের ওই দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট আবেদন করে। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া চলে। পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা প্রদেয় কর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
২০২৪ সালের রায় ও পরবর্তী ঘটনা
এর আগে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের করা রিট খারিজ করে এনবিআরের কর দাবির পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। ওই বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান। তবে রায় ঘোষণার পরদিন, ৫ আগস্ট, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন ঘটে।
পরবর্তী সময়ে মামলাটি নিয়ে আবারও আইনি জটিলতা তৈরি হয়। আদালত স্বপ্রণোদিতভাবে আগের রায় প্রত্যাহার করে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরে মামলাটি নতুন একটি হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠানো হয়।
নতুন বেঞ্চে রিট খারিজ
নতুন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) গ্রামীণ কল্যাণের রিটের রুল খারিজ করে দেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। এর ফলে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের ক্ষেত্রে আইনি বাধা থাকল না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
আপিল করবে গ্রামীণ কল্যাণ
তবে হাইকোর্টের রায়েই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হচ্ছে না। গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করবেন। অর্থাৎ, হাইকোর্টের রায়ের পরও ৬৬৬ কোটি টাকা কর নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া আপিল বিভাগে গড়াতে পারে।
এক নজরে
প্রতিষ্ঠান: গ্রামীণ কল্যাণ
কর কর্তৃপক্ষ: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)
দাবিকৃত কর: ৬৬৬ কোটি টাকা
করবর্ষ: ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭
রায়: রিটের রুল খারিজ
পরিশোধের সময়: ৩ বছর
পরবর্তী পদক্ষেপ: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্ত
হাইকোর্টের সর্বশেষ রায় অনুযায়ী, গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আপিলের সিদ্ধান্তের কারণে বিষয়টি এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র