09/15/2026 শিক্ষা-প্রযুক্তি ও বিনিয়োগে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি
odhikarpatra
১৪ September ২০২৬ ২৩:৫৭
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলমের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের পক্ষ থেকে একটি অভিনন্দনপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করেন। এ জন্য রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি এবং হাইকমিশনারের মাধ্যমে রাজার প্রতি শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ এবং কমনওয়েলথের শিক্ষাবৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দুই দেশের সম্পর্ক ও পারস্পরিক বন্ধন জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি কমনওয়েলথের সদস্য হিসেবে অভিন্ন স্বার্থ ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক ধারার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে। এ ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির গণতন্ত্র চর্চায় যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সফর এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার জানান, তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের প্রায় ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ পণ্য এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আরও তিন বছর যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত অবাধ প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে।
রাষ্ট্রপতি এ সুবিধাকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ডিজিটাল জলবায়ু ও আবহাওয়া-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের উদ্যোগ সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।