09/17/2026 পাকিস্তান-চীনের সীমান্ত কমিশন প্রত্যাখ্যান ভারতের
odhikarpatra
১৭ September ২০২৬ ০৫:৪৫
পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কার্যকর করা নতুন সীমান্ত যৌথ কমিশন প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লি বলেছে, ভারতীয় ভূখণ্ড-সংক্রান্ত বিষয়ে পাকিস্তান ও চীনের এমন কোনো উদ্যোগের আইনি ভিত্তি নেই এবং এ ধরনের ব্যবস্থা ভারত মেনে নেয় না।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে এ অবস্থান জানান। পাকিস্তান ও চীনের সীমান্ত যৌথ কমিশনের প্রথম বৈঠক ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ভারতের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া আসে।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে কোনো স্বীকৃত সীমান্ত নেই এবং ভারত তথাকথিত ‘পাকিস্তান-চীন সীমান্ত যৌথ কমিশন’ প্রত্যাখ্যান করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনটির কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে ভারত নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। ভারতের বক্তব্য হলো, পাকিস্তান ভারতীয় ভূখণ্ড বলে দাবি করা অঞ্চল নিয়ে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার রাখে না।
ভারত ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিও স্বীকার করে না। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরে ওই চুক্তিকে অবৈধ ও অকার্যকর বলে আসছে।
নয়াদিল্লির বক্তব্য, ভারতীয় ভূখণ্ডের অবস্থান পরিবর্তন কিংবা সেখানে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণকে বৈধতা দেওয়ার কোনো প্রচেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করবে। ভারত আরও বলেছে, ভারতীয় ভূখণ্ডকে ঘিরে চীন ও পাকিস্তানের কোনো সীমান্ত-সহযোগিতা ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, পাকিস্তান-চীন সীমান্ত যৌথ কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ সীমান্ত জরিপ, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কমিশনটি কাজ করবে।
অর্থাৎ ইসলামাবাদ উদ্যোগটিকে পাকিস্তান-চীনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেখছে। বিপরীতে নয়াদিল্লি ভারতীয় দাবিকৃত ভূখণ্ডকে ঘিরে এই উদ্যোগের বৈধতা প্রত্যাখ্যান করেছে।
পাকিস্তান ও চীনের সীমান্ত সহযোগিতা নিয়ে ভারতের আপত্তি দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি এবং ভারতীয় দাবিকৃত জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভূখণ্ড নিয়ে তিন দেশের অবস্থান পরস্পরবিরোধী।
নতুন সীমান্ত যৌথ কমিশনের কার্যক্রম শুরুর ফলে সেই পুরোনো বিরোধ আবারও কূটনৈতিক আলোচনায় এসেছে। একদিকে পাকিস্তান ও চীন সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ বাড়ানোর কথা বলছে, অন্যদিকে ভারত কমিশনটির আইনি ভিত্তি এবং ভারতীয় ভূখণ্ড-সংক্রান্ত যেকোনো ব্যবস্থা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ফলে পাকিস্তান-চীন সীমান্ত সহযোগিতার নতুন উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘদিনের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব-সংক্রান্ত বিরোধে নতুন কূটনৈতিক মাত্রা যুক্ত হয়েছে।