09/17/2026 আসাদ আমলের সন্ত্রাসবাদ আদালত বিলুপ্ত, রায়ও বাতিলের সিদ্ধান্ত সিরিয়ায়
odhikarpatra
১৭ September ২০২৬ ০৬:০৬
অধিকার পত্র ডটকম, আন্তর্জাতিক ডেক্স
সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত ‘সন্ত্রাসবাদবিরোধী আদালত’ বিলুপ্ত করেছে সিরিয়ার নতুন পার্লামেন্ট। একই সঙ্গে আদালতটির দেওয়া রায়গুলোর আইনগত প্রভাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্টে ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়।
২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কাউন্টার-টেররিজম কোর্ট আসাদ সরকারের সময় সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে হাজারো সিরীয় নাগরিকের বিচার করেছিল। নতুন কর্তৃপক্ষ এর কার্যক্রম আগেই বন্ধ করে দিয়েছিল; এবার পার্লামেন্টের ভোটের মাধ্যমে আদালতটির বিলুপ্তি আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।
২০২৫ সালের জুনে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা আদালতটির সঙ্গে যুক্ত ৬৭ বিচারককে বরখাস্ত করেছিলেন। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ঘোষিত সাংবিধানিক ঘোষণাতেও আদালতটির ‘অন্যায্য’ রায়ের প্রভাব বাতিল এবং জব্দ করা সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটি ২০২৪ সালে আদালতটি প্রতিষ্ঠার আইনে পর্যাপ্ত বিচারিক সুরক্ষা না থাকার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। একই সঙ্গে নির্বিচারে আটক, নির্যাতন বা দুর্ব্যবহার এবং আদালতের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল সংস্থাটি।
আসাদ সরকারের পতনের পর গঠিত সিরিয়ার নতুন পার্লামেন্ট জুলাই ২০২৬ সালে প্রথম অধিবেশন শুরু করে। অভ্যন্তরীণ বিধি ও কমিটি গঠনের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষ করার পর আদালত বিলুপ্তির সিদ্ধান্তটি নতুন পার্লামেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে সামনে এসেছে।
২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। এরপর দেশটির নতুন কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনব্যবস্থায় বিভিন্ন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়।
আদালত বিলুপ্তির সিদ্ধান্তের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভও চলছে।
বুধবার তাল তামর শহরের কাছে বিক্ষোভকারীরা গুরুত্বপূর্ণ এম৪ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে কামিশলি ও রুমেইলান তেলক্ষেত্র থেকে তেল পরিবহনকারী শত শত ট্যাংকার আটকা পড়ে। বিক্ষোভকারীরা জ্বালানির দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ার সঙ্গে জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহারের বিষয়টি স্থানীয় অসন্তোষের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। সরকার রোববার পেট্রোলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ বাড়িয়েছে বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি কুর্দি জনগোষ্ঠীর ভাষা ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা কুর্দি ভাষা ও রাজনৈতিক অধিকারের সাংবিধানিক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে অধিকার বাস্তবায়ন নিয়ে কুর্দি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও মতপার্থক্য রয়েছে।
ফলে একদিকে আসাদ আমলের বিতর্কিত বিচারব্যবস্থার একটি অধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধ-পরবর্তী সিরিয়ায় কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব, অর্থনৈতিক চাপ এবং কুর্দি অধিকার নিয়ে নতুন সরকারের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স ও এপি-র প্রতিবেদন।