09/19/2026 মনিরুল ইসলাম ও স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী দাখিলের অনুমোদন দিল দুদক
odhikarpatra
১৮ September ২০২৬ ২৩:২৯
অধিকার সংযুক্ত নিউজ
সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জাকিয়া পারভীনের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় তাদের পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. তানজীর আহমেদ এ তথ্য জানান।
দুদক সূত্র জানায়, কমিশনের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল অনুসন্ধান শেষে এ বিষয়ে প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করেন। প্রতিবেদনে মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের নামে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৫ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বিভিন্ন ব্যয়সহ তার অর্জিত সম্পদ ও ব্যয়ের মোট পরিমাণ ২ কোটি ৭৭ লাখ ৭১ হাজার ৬২৩ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ২ কোটি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮০ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধানে মনিরুল ইসলামের নামে অর্জিত সম্পদ ও বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের সঙ্গে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের অসঙ্গতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাকিয়া পারভীনের নামে ১০ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকার স্থাবর এবং ২৭ লাখ ৮০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ হিসাবে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৮ লাখ ৮ হাজার ৫০০ টাকা।
এর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যয় বাবদ ৯ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা যোগ করলে মোট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা। বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে জাকিয়া পারভীনের নামে অর্জিত সম্পদ ও ব্যয়ের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য আয়ের অসঙ্গতি পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বামীর সহায়তায় তার নামে এসব সম্পদ অর্জনের বিষয়টিও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে দুদক।
দুদক জানায়, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও জাকিয়া পারভীনের কাছ থেকে পৃথক সম্পদ বিবরণী গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় তাদের পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
দুদকের নথিতে মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে আরও বলা হয়েছে, তিনি বর্তমানে পিআরএল ভোগরত অবস্থায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ বা দুদকের অনুসন্ধানে অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া যাওয়াকে চূড়ান্তভাবে দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। বিষয়টি পরবর্তী আইনগত ও অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।