09/21/2026 শহীদ মিনার থেকে লালবাগ, রিকশায় পুরান ঢাকা থেকে বুড়িগঙ্গা—Lincoln University-এর দুই ডিনের চোখে বাংলাদেশের ইতিহাস, হারানো জ্ঞান, মানুষের জীবন, উন্নয়ন ও নদীর ভবিষ্যৎ
odhikarpatra
২০ September ২০২৬ ২১:২৭
বিশেষ প্রতিবেদন | অধিকারপত্র ডটকম | ঢাকা
নিউজিল্যান্ডের Lincoln University-এর Faculty of Agribusiness and Commerce-এর Dean Professor Hugh Bigsby এবং Faculty of Environment, Society and Design-এর Dean Professor Emma J. Stewart বাংলাদেশ সফরে অধিকারপত্র ডটকমের উপদেষ্টা সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর শুরু হয় এক ব্যতিক্রমী ঢাকা-যাত্রা—কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও এক মিনিট নীরবতা, লালবাগ কেল্লায় ঐতিহাসিক পানি ব্যবস্থাপনা ও indigenous knowledge নিয়ে আলোচনা, রিকশায় পুরান ঢাকার জনজীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ এবং বুড়িগঙ্গায় নৌভ্রমণে নদীনির্ভর জীবন, pollution, natural resource economics ও sustainable development নিয়ে কথোপকথন। সফরে সঙ্গে ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান। শহীদ মিনার থেকে বুড়িগঙ্গা—এক দিনের এই সফর শেষ পর্যন্ত sightseeing-এর সীমা ছাড়িয়ে হয়ে ওঠে language, heritage, colonialism, local knowledge, economic inequality, urban governance, environment এবং future generations-এর অধিকার নিয়ে এক আন্তঃদেশীয় ও আন্তঃবিষয়ক knowledge dialogue। প্রশ্ন থেকে যায়—যে নদী একটি মহানগরের ইতিহাস, অর্থনীতি ও জীবনের অংশ, সেই নদীর ভবিষ্যৎ আমরা কীভাবে রক্ষা করব?
একটি শহরকে কি কয়েকটি দর্শনীয় স্থান দেখে জানা যায়? — নাকি শহরকে জানতে হয় তার স্মৃতিস্তম্ভের সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে, কয়েকশ বছরের পুরোনো স্থাপত্যের দেয়ালে হাত রেখে, সরু গলির রিকশায় বসে মানুষের জীবন দেখতে দেখতে এবং শেষ বিকেলে সেই শহরের প্রাণ বলে পরিচিত অথচ দূষণে বিপন্ন নদীর বুকে নৌকায় ভেসে?
নিউজিল্যান্ডের Lincoln University-এর দুই অধ্যাপক ও ডিন—Professor Dr. Hugh Bigsby, Dean, Faculty of Agribusiness and Commerce এবং Professor Dr. Emma J. Stewart, Dean, Faculty of Environment, Society and Design—এর ঢাকা সফর যেন শেষ পর্যন্ত এমনই একটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার যাত্রায় পরিণত হলো।
১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে তাঁদের এই যাত্রা শুরু হয় অধিকারপত্র ডটকমের উপদেষ্টা সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Institute of Education and Research-এর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে। সঙ্গে ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান।
এরপর শুরু হয় অন্য এক ঢাকা দেখা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে লালবাগ কেল্লা, লালবাগ থেকে রিকশায় পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাট, তারপর বুড়িগঙ্গার বুকে নৌভ্রমণ।
দেখতে এটি একটি city tour। কিন্তু একটু গভীরে গেলে এটি হয়ে ওঠে—ভাষা, ইতিহাস, ঔপনিবেশিকতা, indigenous knowledge, natural resources, নগর অর্থনীতি, বৈষম্য, পরিবেশ এবং মানুষের টিকে থাকার গল্প নিয়ে একটি চলমান আন্তর্জাতিক classroom।
এই সফরের তাৎপর্য বোঝার জন্য অতিথি দুই অধ্যাপকের একাডেমিক পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ।
Professor Hugh Bigsby হলেন Lincoln University-এর Faculty of Agribusiness and Commerce-এর Dean। Facultyটির গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রের মধ্যে agribusiness, economics, international rural development, land and farm management, supply chains এবং land-based economic systems-এর মতো বিষয় রয়েছে।
অন্যদিকে Professor Emma J. Stewart হলেন Faculty of Environment, Society and Design-এর Dean। তাঁর নিজস্ব গবেষণা বিশেষভাবে environmental change-এর human dimensions, tourism, communities, natural resources এবং governance-এর সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র polar, coastal এবং high-mountain environments পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে ঢাকা তাঁদের কাছে শুধু একটি ঐতিহাসিক শহর নয়।
একজন অর্থনীতিবিদ ও land/resource-oriented scholar যখন পুরান ঢাকার মানুষের শ্রম, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ঘন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখেন, তখন তাঁর সামনে প্রশ্ন আসে—resource আছে, labour আছে, entrepreneurship আছে; তাহলে prosperity কীভাবে বণ্টিত হচ্ছে?
আর একজন environment–society scholar যখন একই শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত বুড়িগঙ্গার দূষণ দেখেন, তখন প্রশ্নটি অন্যভাবে আসে—মানুষ যে natural resource-এর ওপর এত নির্ভরশীল, মানুষই কেন সেই resource-কে এমনভাবে বিপন্ন করছে?
এই দুই প্রশ্নের মাঝখানেই যেন দাঁড়িয়ে আছে আজকের ঢাকা।
অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান দুই অতিথিকে নিয়ে প্রথমে যান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
সেখানে Professor Hugh Bigsby এবং Professor Emma J. Stewart ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের স্মরণে এক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
একজন বিদেশি দর্শনার্থীর কাছে শহীদ মিনার হয়তো প্রথম দেখায় একটি স্থাপত্য। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের কাছে এটি তার চেয়ে অনেক বেশি। কেননা এটি ভাষার অধিকারের স্মারক। এটি সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের স্মারক। এটি নিজের ভাষায় কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের জীবন দেওয়ার স্মারক।
অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান অতিথিদের কাছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, বাঙালির আত্মত্যাগ এবং পরবর্তী জাতীয় ইতিহাসে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন।
এই জায়গাতেই সফরটির প্রথম intellectual connection তৈরি হয়। কারণ ভাষা শুধু communication tool নয়; ভাষার মধ্যে থাকে মানুষের স্মৃতি, সংস্কৃতি এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করা জ্ঞান। একটি ভাষা হারিয়ে গেলে শুধু শব্দ হারায় না—অনেক ক্ষেত্রে হারিয়ে যায় মানুষের প্রকৃতি বোঝার পদ্ধতি, কৃষির অভিজ্ঞতা, নদী বোঝার ভাষা, ঋতুর পাঠ এবং স্থানীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধান।
শহীদ মিনার থেকে সফরকারীরা যান পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লায়।
মুঘল স্থাপত্যের নান্দনিকতার পাশাপাশি তাঁদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে ঐতিহাসিক স্থাপনায় পানি ব্যবস্থাপনা ও সে সময়কার প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিভিন্ন নিদর্শন। কয়েকশ বছর আগে নির্মিত একটি স্থাপনায় পানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার চিন্তা দেখে অতিথিদের মধ্যে বিস্ময় তৈরি হয়।
আলোচনায় প্রশ্ন ওঠে—এত আগে যদি এই অঞ্চলের মানুষের পানি, স্থাপত্য ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় এমন জ্ঞান থাকে, সেই knowledge system-এর কতটুকু আমরা আজও বহন করছি?
এখানেই অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলোচনায় নিয়ে আসেন colonialism এবং lost of indigenous knowledge-এর প্রশ্ন।
তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল—ঔপনিবেশিক শাসন শুধু অর্থনৈতিক সম্পদ আহরণ বা রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে স্থানীয় অনেক knowledge system-ও প্রান্তিক হয়েছে। আধুনিকতার একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রাধান্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বহু indigenous বা native knowledge-এর ধারাবাহিকতা দুর্বল হয়েছে।
এই বক্তব্য ইতিহাসের একটি বড় বিতর্কের দরজাও খুলে দেয়। কারণ সব ঐতিহ্যগত জ্ঞান যে বিজ্ঞানসম্মত—তা নয়।
আবার পশ্চিমা বা আধুনিক institutional knowledge-ই যে মানুষের সব সমস্যার একমাত্র সমাধান—সেটিও নয়।বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—কোন স্থানীয় জ্ঞান কার্যকর ছিল, কোনটি evidence দিয়ে যাচাই করা যায়, কোনটি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে নতুনভাবে ব্যবহার করা সম্ভব?
লালবাগের পুরোনো স্থাপত্য তাই মুহূর্তের জন্য museum object থেকে একটি research question-এ পরিণত হয়।
এরপর নেওয়া হলো একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। ঢাকাকে শুধু air-conditioned গাড়ির কাচের ভেতর থেকে দেখানো হবে না।
লালবাগ কেল্লা থেকে ওয়াইজঘাটের পথে তাঁরা উঠলেন রিকশায়।
পুরান ঢাকার সরু রাস্তা। দুই পাশে দোকান। মাথার ওপর জটলা করা তার। একটি দোকানের সামনে ক্রেতা, পাশে ভ্যান, তার পাশে রিকশা, তার পাশ দিয়ে মানুষ—আর সেই কয়েক ফুট জায়গার মধ্যেই ব্যবসা, যাতায়াত, কথাবার্তা, দরকষাকষি, জীবিকা এবং জীবন।
ঢাকার এই অংশে জায়গা কম। কিন্তু মানুষের economic activity কম নয়।
রিকশা চলতে চলতে Professor Bigsby-এর পর্যবেক্ষণও সেই জায়গায় গিয়ে ঠেকে। এত সরু রাস্তা, এত মানুষ, এত ব্যবসা, এত কর্মব্যস্ততা—মানুষ এত কঠোর পরিশ্রম করছে; তাহলে এই শ্রম ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনুপাতে মানুষের জীবনমান ও সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল কেন সব জায়গায় দৃশ্যমান নয়?
এ প্রশ্নের উত্তর অবশ্য একটি বাক্যে দেওয়া যায় না। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, অবকাঠামোগত পরিবর্তন ও সামাজিক অগ্রগতির বাস্তব অর্জন রয়েছে। একই সঙ্গে আয় ও সম্পদের বণ্টন, institutional capacity, governance এবং দুর্নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্নও রয়েছে।
রিকশার সেই চলমান আলোচনায়ও উঠে আসে অসম সম্পদ বণ্টন, দুর্নীতি, governance-এর দুর্বলতা এবং অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রভাবের প্রসঙ্গ।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখা প্রয়োজন: Economic growth আর equitable development এক জিনিস নয়।
GDP বাড়তে পারে। শহরে বড় বড় ভবন উঠতে পারে। ব্যবসা বাড়তে পারে। কিন্তু উন্নয়নের আসল প্রশ্ন আরও কয়েকটি—
পুরান ঢাকার কয়েক কিলোমিটারের রিকশা ভ্রমণ তাই একটি ছোট্ট development economics laboratory-তে পরিণত হয়।
ওয়াইজঘাট থেকে সফরের পরবর্তী অধ্যায় শুরু হয় বুড়িগঙ্গায়। Professor Bigsby, Professor Stewart, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ও সফরসঙ্গীরা নৌকায় ওঠেন। নদীর বুক থেকে ঢাকা অন্য রকম। ঘাটে মানুষ। নৌকা। পণ্য। ব্যবসা। যাত্রী। নদীর সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য জীবিকা। কেউ নদীপথে পণ্য পরিবহন করছেন, কেউ যাত্রী পার করছেন, কেউ ঘাটকেন্দ্রিক ব্যবসা করছেন।
দুই বিদেশি অধ্যাপকের কাছে বিশেষভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে একটি বিষয়—এই নদী শুধু একটি water body নয়; এটি একটি economic system। এটি livelihood। এটি transportation corridor। এটি urban ecosystem। এটি ইতিহাস। এবং এটি মানুষের জীবন। কিন্তু সেই দৃশ্যের পাশেই রয়েছে আরেক বাস্তবতা—দূষণ। প্রশ্নটি তাই প্রায় অনিবার্য হয়ে আসে—যে natural resource-এর ওপর এত মানুষ নির্ভরশীল, সেই resource এত দূষিত কেন?
বুড়িগঙ্গার দূষণ নিয়ে উদ্বেগ শুধু সফরকারীদের চোখে দেখা অভিজ্ঞতার বিষয় নয়। ঢাকার নদী ও জলপথের দূষণ দীর্ঘদিন ধরে একটি documented environmental challenge। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন-সংস্থার মূল্যায়নেও untreated wastewater ও sewage-এর বড় অংশ ঢাকার আন্তঃসংযুক্ত জলপথে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
ফলে বুড়িগঙ্গার প্রশ্নকে শুধু ‘নদী নোংরা’—এই বাক্যে সীমাবদ্ধ করলে সমস্যাটির গভীরতা ধরা পড়ে না। এর অন্তত চারটি মাত্রা রয়েছে।
এখানেই natural resource economics-এর একটি মৌলিক ধারণা সামনে আসে—প্রকৃতির মূল্য তখনই বোঝা যায় না, যখন সেটি হারিয়ে যায়; বরং সেটিকে টিকিয়ে রাখতে যে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ই তার মূল্য হিসাব করতে হয়।
Professor Hugh Bigsby-এর academic orientation-এর কারণে বুড়িগঙ্গাকে ঘিরে প্রশ্নটি বিশেষ তাৎপর্য পায়। একটি নদী যদি হাজার হাজার মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সহায়তা করে, তাহলে তার pollution একটি negative externality হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
সহজ ভাষায়—কেউ দূষণ করছে, কিন্তু দূষণের পুরো খরচ সে নিজে বহন করছে না। খরচ বহন করছেন অন্য মানুষ। বিশেষ করে:
তাই নদী রক্ষা শুধু environmental activism নয়। এটি economic policy।
Professor Emma J. Stewart-এর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো environmental change-এর সঙ্গে people, communities, resources এবং governance-এর সম্পর্ক। তাঁর গবেষণা climate-sensitive nature-based environments এবং tourism-এর human dimensions নিয়েও বিস্তৃত।
ফলে বুড়িগঙ্গায় দাঁড়িয়ে যে প্রশ্ন সামনে আসে, সেটি তাঁর গবেষণার বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গেও সাযুজ্যপূর্ণ—প্রকৃতি বদলে গেলে মানুষের জীবন কীভাবে বদলায়?
আর উল্টোভাবে—মানুষের কর্মকাণ্ড প্রকৃতিকে বদলে দিলে তার সামাজিক মূল্য কে দেয়?
একটি নদীর pollution তাই chemistry-এর বিষয়মাত্র নয়। এটি আসলে:
—সব একসঙ্গে।
এখানে Lincoln University-এর পরিচয়ও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজেদের Southern Hemisphere-এর একমাত্র specialist land-based university হিসেবে বর্ণনা করে। এর academic কাঠামোয় agriculture, agribusiness, environment, landscape, tourism, land management এবং land-based economy বিশেষ গুরুত্ব পায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের Faculty of Environment, Society and Design-এর ঘোষিত মনোযোগও মানুষ কীভাবে land, water এবং people-এর যত্ন নেয়—এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে।
অন্যদিকে Faculty of Agribusiness and Commerce business education-কে agriculture, markets, global value chains, land management এবং rural development-এর সঙ্গে যুক্ত করে দেখে। অর্থাৎ—
Land + People + Economy + Environment
ঢাকার এক দিনের এই সফরেও যেন ঠিক সেই চারটি উপাদান বারবার ফিরে এসেছে।
এই সফরকে যদি তিনটি classroom-এ ভাগ করা হয়, তাহলে ছবিটি এমন—
তিনটি জায়গা। তিনটি আলাদা ইতিহাস। কিন্তু প্রশ্ন আসলে একটি—
এই সফরের সবচেয়ে বড় বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশ্ন সম্ভবত এখানেই।
না কি উন্নয়নের হিসাবের মধ্যে আরও কিছু থাকতে হবে—
অবকাঠামো অবশ্যই উন্নয়ন। কিন্তু শুধু concrete দিয়ে civilisation মাপা যায় না। একটি civilisation-এর পরিমাপ তার memory, knowledge, equity, environment এবং human dignity দিয়েও করতে হয়।
নৌকা এগিয়ে চলে। দুই পাশে ঢাকা। একদিকে হাজার বছরের নদীকেন্দ্রিক জীবন। অন্যদিকে আধুনিক মহানগরের চাপ।
এই নদী দেখেছে মুঘল ঢাকা। দেখেছে ঔপনিবেশিক সময়। দেখেছে পাকিস্তান আমল। দেখেছে স্বাধীন বাংলাদেশ। এখন সে দেখছে একবিংশ শতাব্দীর megacity। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— আমরা কি বুড়িগঙ্গাকে এমন অবস্থায় রেখে যাব, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শুধু ইতিহাসের বইয়ে পড়ে—ঢাকার পাশে একসময় একটি জীবন্ত নদী ছিল?
নাকি নদীকে আবারও নগরের ecological এবং economic asset হিসেবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?
সেটিই এখন governance-এর পরীক্ষা।
এই চারটি প্রশ্ন আলাদা নয়।
কিন্তু মানুষ তখনই টেকসইভাবে এগোয়, যখন সে নিজের ইতিহাসকে মনে রাখে, নিজের জ্ঞানকে মূল্য দেয়, সম্পদের সুফল ন্যায়সংগতভাবে বণ্টন করে এবং যে প্রকৃতি তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে—তাকে ধ্বংস না করে সংরক্ষণ করে।
Professor Hugh Bigsby ও Professor Emma J. Stewart-এর ঢাকা সফর তাই শুধুই দুই বিদেশি অধ্যাপকের sightseeing নয়।
এটি দুই দেশের academics-এর মধ্যে একটি knowledge dialogue। এটি heritage-এর সঙ্গে modernity-এর কথোপকথন। Economics-এর সঙ্গে environment-এর কথোপকথন। Local knowledge-এর সঙ্গে global scholarship-এর কথোপকথন। আর সবচেয়ে বড় কথা—মানুষের সঙ্গে তার শহর ও প্রকৃতির সম্পর্ক নিয়ে কথোপকথন।
শহীদ মিনারের সামনে নীরবতা দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, বুড়িগঙ্গার ঢেউয়ে এসে সেটি যেন একটি প্রশ্ন রেখে গেল—যে জাতি ভাষার অধিকার রক্ষার জন্য জীবন দিতে পেরেছে, সেই জাতি কি তার নদী, পরিবেশ, স্থানীয় জ্ঞান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারও একই দৃঢ়তায় রক্ষা করতে পারবে?
উত্তরটি কোনো বিদেশি অধ্যাপক দিয়ে যাবেন না। আসলে উত্তরটি আমাদেরই দিতে হবে।
#HughBigsby #EmmaStewart #LincolnUniversity #NewZealand #Bangladesh #Dhaka #OdhikarPatro #SignatureFeature #ShaheedMinar #LanguageMovement #LalbaghFort #OldDhaka #Buriganga #SaveBuriganga #NaturalResources #NaturalResourceEconomics #IndigenousKnowledge #SustainableDevelopment #RiverPollution #RiverGovernance #EnvironmentalSustainability #UrbanGovernance #AcademicExchange #KnowledgeDialogue #BangladeshHeritage #ঢাকা #শহীদমিনার #ভাষাআন্দোলন #লালবাগকেল্লা #পুরানঢাকা #বুড়িগঙ্গা #বুড়িগঙ্গাবাঁচাও #নদীবাঁচাও #পরিবেশ #টেকসইউন্নয়ন #অধিকারপত্র