09/21/2026 হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিননামা দিলেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম
odhikarpatra
২০ September ২০২৬ ২১:৪৯
রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর ঢাকার আদালতে জামিননামা দাখিল করেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি জামিননামা জমা দেন।
এর আগে গত ১০ আগস্ট ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে আট সপ্তাহের জামিন দেন হাইকোর্ট।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং গোপন ভিডিও ফাঁসের সন্দেহকে কেন্দ্র করে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় মামলা করেন গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান।
মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ছাড়াও আমিনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসানকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার রোজগার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। আত্মীয়তার সূত্রে ওই বাসায় গাজী নজরুলের যাতায়াত ছিল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির একটি সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং গাজী নজরুলকে ওই সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও দাবি করা হয়, মগবাজারের একটি চক্র গাজী নজরুল ও তার ভাগ্নির কিছু অপ্রীতিকর ভিডিও সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করছিল। গাজী নজরুলের ধারণা ছিল, ওবায়দুর ওই ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের কাছে দিয়েছেন। এ বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই ওবায়দুরের ওপর হামলা চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আমিনুর রহমান কৌশলে ওবায়দুরকে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিদের সঙ্গে নিয়ে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে মেঝেতে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম চিৎকার করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত ওবায়দুরকে স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে আসামিরা ওবায়দুরকে যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই হত্যা করার হুমকি দেন।
তবে মামলায় করা এসব অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত নয়। আদালতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।