09/25/2026 গাজা নিয়ে আলোচিত ‘NAZA’ চলচ্চিত্র নভেম্বর থেকে বিনামূল্যে অনলাইনে
odhikarpatra
২৫ September ২০২৬ ০৬:৩২
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গাজা যুদ্ধ নিয়ে নির্মিত আলোচিত তথ্যচিত্র ‘NAZA’ নভেম্বর থেকে বিনামূল্যে অনলাইনে দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। চলচ্চিত্রটির প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে শেষ হওয়ার পর এটি অনলাইনে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন এর সহ-পরিচালক ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘NAZA’ চলচ্চিত্রটি ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোর যৌথভাবে নির্মাণ করেছেন। চলচ্চিত্রটির প্রযোজনায় যুক্ত রয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। নভেম্বর থেকে দ্য গার্ডিয়ানের ওয়েবসাইটে এটি বিনামূল্যে দেখার সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
চলচ্চিত্রটি প্রায় তিন বছর ধরে পরিচালিত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা বিভাগের কয়েকজন সূত্রের বক্তব্য রয়েছে, যাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলচ্চিত্রটির অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো ‘ল্যাভেন্ডার’ নামে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গাজায় লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এসব বক্তব্য চলচ্চিত্রে অংশ নেওয়া গোপনীয় সূত্রগুলোর দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
‘NAZA’ নামটি হিব্রু ভাষায় ‘collateral damage’ বা ‘পার্শ্বক্ষয়’ বোঝাতে ব্যবহৃত একটি শব্দ থেকে এসেছে। চলচ্চিত্রটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ মিনিট।
চলচ্চিত্রটি ২০২৬ সালের ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছে। আগামী শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবে এর প্রদর্শনী হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও কানাডাসহ আরও কয়েকটি দেশেও চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী নির্ধারিত হয়েছে।
চলচ্চিত্রের পরিচালক ইউভাল আব্রাহাম জানিয়েছেন, ছবিটি দেখার জন্য ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। সে কারণে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন শেষ হওয়ার পর অনলাইনে বিনামূল্যে দেখার সুযোগ করে দেওয়া হবে।
এদিকে চলচ্চিত্রটি ইসরায়েলে রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরের নাগরিকত্ব বাতিলের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগ তুলেছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সেনাদের ‘মানহানি’ করার অভিযোগে নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ তৈরি করতে আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
ইউভাল আব্রাহাম এসব সমালোচনার জবাবে সাংবাদিকতা ও সরকারের সমালোচনাকে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা