09/26/2026 ককটেল ইস্যুতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত: ডিএমপি
odhikarpatra
২৫ September ২০২৬ ২৩:৩৯
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনারের মন্তব্য
ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধারের বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, কেন তিনি এমন বক্তব্য দিয়েছেন, তা তিনি এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে তার মতে, পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।
পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দলের মিছিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছিলেন, সরকার তিন দফা দাবি মেনে নিলে ঢাকায় আর ককটেল বিস্ফোরণ হবে না।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার জানান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর এলাকা থেকে জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে শ্যামপুর থানা-পুলিশ। তার কাছ থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম এবং ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের দাবি, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণের তদন্তে জাহিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোররাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, জাহিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেড় কেজি কস্টিক সোডা, দেড় কেজি সালফার, পাঁচ কেজি মারবেল, দুই কেজি তারকাঁটা, ককটেল মোড়ানোর টেপ, ৯ হাজার কাগজের মুখোশ, ইলাস্টিক এবং একটি ব্লেন্ডার ও জার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, এসব উপকরণ ব্যবহার করে ককটেল তৈরি এবং বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতার মাধ্যমে এসব মুখোশ ও বিস্ফোরক জাহিদের কাছে পৌঁছেছিল বলে জাহিদ জানিয়েছে। পুলিশ বলছে, জাহিদ নিজেকে লালবাগ ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং এ কাজে সংগঠনের আরও কয়েকজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের ধারণা, বিভিন্ন মিছিল ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পরিচয় গোপন রাখার জন্য এসব মুখোশ ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।