09/26/2026 শিক্ষার্থীদের রেটিংয়ে ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি পেলেন ১.৫৯
odhikarpatra
২৬ September ২০২৬ ০৬:০২
অধিকার পত্র ডটকম, ঢাবি প্রতিনিধি:
শিক্ষা ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোনামির পাঠদান, পেশাদারিত্ব, সময়ানুবর্তিতা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের দেওয়া বেনামি রিভিউতে কেউ তাঁকে বন্ধুসুলভ ও ভালো শিক্ষক হিসেবে প্রশংসা করেছেন। আবার কেউ পাঠদান ও পেশাদারিত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া রেটিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচের মধ্যে শিক্ষক মোনামির সামগ্রিক গড় স্কোর ১ দশমিক ৫৯।
রেটিংয়ে দেখা যায়, শিক্ষক বিষয়বস্তু স্পষ্ট ও কার্যকরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন কি না—এই প্রশ্নে গড় স্কোর ১ দশমিক ৩৬। ক্লাসে সমালোচনামূলক ও স্বাধীন চিন্তাকে উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ৬০ এবং উদাহরণ ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে পাঠ বুঝতে সহায়তার ক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ৫২।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রেও তুলনামূলক কম স্কোর পাওয়া গেছে। প্রশ্ন করা ও উন্মুক্ত আলোচনায় উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্কোর ২ দশমিক ০৪। শিক্ষার্থীদের কাছে সহজে পৌঁছানো ও তাঁদের প্রতি সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ৭৬ এবং সব শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্মান ও ন্যায্য আচরণের ক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ৬৮।
মূল্যায়ন ও ফিডব্যাকের ক্ষেত্রেও রেটিং কম। গ্রেডিংয়ের মানদণ্ড স্পষ্ট, ন্যায্য ও স্বচ্ছ কি না—এই প্রশ্নে স্কোর ১ দশমিক ৬৮। অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার ফিডব্যাক সময়মতো এবং গঠনমূলক ছিল কি না—এ ক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ৫৬।
পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রেও কম স্কোর দেখা গেছে। শিক্ষক সময়ানুবর্তী এবং নিয়মিত ক্লাস নিয়েছেন কি না—এই প্রশ্নে স্কোর ১ দশমিক ২০। পেশাগত সততা ও আচরণ বজায় রাখার ক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ২৮।
সামগ্রিক সন্তুষ্টির ক্ষেত্রেও রেটিং খুব বেশি নয়। শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষককে অন্যদের কাছে সুপারিশ করবেন কি না—এ প্রশ্নে স্কোর ১ দশমিক ৪৪। সামগ্রিকভাবে কোর্সের পাঠদানে সন্তুষ্ট কি না—এ ক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ৫২।
তবে শুধু সংখ্যাগত রেটিং নয়, শিক্ষার্থীদের লিখিত মন্তব্যেও ভিন্ন ভিন্ন মতামত পাওয়া গেছে। একজন শিক্ষার্থী মোনামিকে বন্ধুসুলভ ও ভালো শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ওই শিক্ষার্থীর মতে, শিক্ষিকার কাছে সহজে পৌঁছানো যায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি দিয়ে একজন শিক্ষকের পাঠদানের সক্ষমতা বিচার করা উচিত নয়।
অন্যদিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁর পেশাদারিত্ব, সময় ব্যবস্থাপনা ও পাঠদানের সক্ষমতা নিয়ে অভিযোগ করেছেন। কোনো কোনো লিখিত রিভিউতে পরীক্ষার তারিখ মনে রাখা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে।
আরেকটি রিভিউতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে, কিছু শিক্ষার্থী তুলনামূলক বেশি মনোযোগ বা ভালো নম্বর পেয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো যাচাই ওই রিভিউগুলোতে পাওয়া যায়নি।
ফলে শিক্ষার্থীদের দেওয়া লিখিত মতামতে মোনামিকে নিয়ে একদিকে যেমন বন্ধুসুলভ ও ভালো শিক্ষক হিসেবে প্রশংসা রয়েছে, অন্যদিকে পাঠদান, সময়ানুবর্তিতা, পেশাদারিত্ব, মূল্যায়ন ও পক্ষপাতিত্ব নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগও উঠে এসেছে।