09/26/2026 বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দারের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট এসোসিয়েশনের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
Odhikarpatra News Desk
২৬ September ২০২৬ ১৯:৪৫
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দারের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেট এসোসিয়েশনের (বিডিসিএ) উদ্যোগে আলোচনা সভা, কুরআন তিলাওয়াত, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর বড় মগবাজারের গুলফেশা প্লাজা মসজিদে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেট এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক মাহবুব রহমান।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নারী উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক ও ক্রীড়া সংগঠক রফিকুল ইসলাম বাবুর। তবে অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। অনুষ্ঠানের দ্বিভাষিক উপস্থাপনায় ছিলেন রাব্বি হাসান নাঈম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মাহবুব রহমান প্রধান অতিথি, সংগঠনের কর্মকর্তা ও সদস্য, শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেটার এবং উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান।
মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান মসজিদে আয়োজনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাঈদ এস্কান্দার শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য যে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনায় মসজিদে কুরআন তিলাওয়াত, মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই আয়োজন শুধু প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ করার জন্য নয়; বরং তাঁর রেখে যাওয়া মানবিক ও ক্রীড়াভিত্তিক উদ্যোগ যেন থেমে না যায় এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের জন্য সংগঠনের কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া যায়—সেই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করাও এর উদ্দেশ্য।
তিনি সাঈদ এস্কান্দারের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর স্বপ্ন ও কর্মকে সামনে রেখে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পরে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম আই চৌধুরী। তিনি শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন এবং বিশেষ করে ক্রিকেটের মাধ্যমে তাঁদের প্রতিভা বিকাশে সাঈদ এস্কান্দারের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সাঈদ এস্কান্দার এমন একটি সময় শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের জন্য কাজ শুরু করেছিলেন, যখন তাঁদের জন্য সংগঠিত ক্রীড়াচর্চা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ ছিল সীমিত। তাঁর উদ্যোগ বহু তরুণকে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এবং নিজেদের সামর্থ্য প্রকাশের সুযোগ তৈরি করেছে।
এম আই চৌধুরী শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতা করার জন্য প্রধান অতিথির প্রতি আহ্বান জানান এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।
আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ডেফ ক্রিকেটের বিকাশে বাংলাদেশ শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেট এসোসিয়েশনের পথচলা বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দারের হাত ধরেই শুরু হয়। তিনি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অত্যন্ত সহানুভূতি ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতেন।
বক্তারা তাঁর ভাবনার কথা স্মরণ করে বলেন, একজন মানুষ কথা বলতে বা শুনতে না পারলেও তাঁর মেধা, সক্ষমতা ও প্রতিভা কোনোভাবেই কমে যায় না। শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী মানুষকে সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হলো খেলাধুলা। বাংলাদেশে ক্রিকেট অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ায় এ খেলায় তাঁদের নিয়মিত অংশগ্রহণ, প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতার সুযোগ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বক্তারা বলেন, সাঈদ এস্কান্দারের স্বপ্ন ছিল—প্রতিবন্ধিতা যেন কারও প্রতিভা বিকাশের পথে বাধা না হয়; বরং খেলাধুলার মাধ্যমে তারা আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক স্বীকৃতি অর্জনের সুযোগ পায়।
বক্তারা বলেন, মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দারের বিশেষত্ব ছিল—তিনি বধির ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী মানুষকে তাঁদের সীমাবদ্ধতা দিয়ে বিচার করেননি; বরং তাঁদের সক্ষমতা ও সম্ভাবনার দিকে তাকিয়েছিলেন।
একজন শ্রবণপ্রতিবন্ধী তরুণ যখন ক্রিকেট মাঠে নামে, তাকে শুধু প্রতিপক্ষের বলই মোকাবিলা করতে হয় না; সামাজিক ভুল ধারণা, যোগাযোগের বাধা, সুযোগের অভাব এবং “সে পারবে তো?”—এমন দীর্ঘদিনের সংশয়ও অতিক্রম করতে হয়।
সাঈদ এস্কান্দারের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, “তারা কী পারে না”—এই প্রশ্ন নয়; বরং “তারা কী করতে পারে এবং সেই সুযোগ কীভাবে তৈরি করা যায়”—সেটিই মূল বিষয়।
আলোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেট এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠার পেছনে একটি স্পষ্ট মানবিক দর্শন ছিল—প্রতিবন্ধিতা মানুষের প্রতিভাকে বাতিল করে না; সুযোগের অভাবই অনেক সময় প্রতিভাকে অদৃশ্য করে রাখে। বক্তারা বলেন, বধির ক্রিকেটারদের জন্য মাঠ, প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও জাতীয় প্রতিনিধিত্বের সুযোগ সৃষ্টি করাই ছিল সংগঠনটির মূল দর্শনের অংশ। ক্রিকেট একজন খেলোয়াড় কতটা শুনতে পারে তা বিচার করে না; বিচার করে সে কতটা ভালো খেলতে পারে—এই ভাবনাই সংগঠনটির অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনার কেন্দ্রে রয়েছে।
বক্তারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি করুণাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁরা বলেন, একজন বধির ক্রিকেটারের প্রয়োজন করুণা নয়; প্রয়োজন খেলার মাঠ, দক্ষ কোচ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় ক্রিকেট সরঞ্জাম এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের বাস্তব সুযোগ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পথও তাঁদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। বক্তাদের ভাষায়, অন্তর্ভুক্তির সবচেয়ে কার্যকর ভাষা করুণা নয়—সুযোগ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর সরফত আলী সপু মানবিকতা, পারস্পরিক সহযোগিতা, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মানুষ—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি কিংবা অবস্থানের পার্থক্যের ঊর্ধ্বে আমরা একই মানবসমাজের অংশ। মানুষের জন্য মানুষ হয়ে দাঁড়ানো, একে অন্যের পাশে থাকা এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি মহান আল্লাহর কাছে মানুষের কল্যাণে কাজ করার শক্তি ও সামর্থ্য কামনা করে বলেন, “আমরা জানি, সবকিছুই মহান আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটে। আল্লাহ আমাদের শক্তি দিন, সঠিক পথে চলার তাওফিক দিন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার সামর্থ্য দিন। আমার জন্য, আপনার জন্য, আমাদের সন্তানদের জন্য এবং আমাদের সবার জন্য তাঁর রহমত কামনা করি।”
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “বিশেষ করে আমাদের শিশু-কিশোরদের দিকে তাকাতে হবে। তারাই আমাদের আগামী দিনের আশা, আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের জন্য এমন একটি দেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে তারা সম্মান, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সমান সুযোগ নিয়ে বড় হতে পারে।”
তিনি সমাজের প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান এবং মানুষের কল্যাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে বলেন।
বক্তারা বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়ার সফলতা তখনই দৃশ্যমান হবে, যখন কোনো বধির শিশুকে তার পরিবার আর বলবে না—তার পক্ষে খেলাধুলায় এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বরং পরিবার, সমাজ ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান তাকে সাহস দেবে যে, সঠিক সুযোগ পেলে তার পক্ষেও জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব। একজন প্রতিবন্ধী শিশুর স্বপ্নকে আগে থেকেই সীমাবদ্ধ না করে তার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করাই হওয়া উচিত সমাজের দায়িত্ব।
দেশ ও মানুষের প্রতি দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে মীর সরফত আলী সপু বলেন, “আমার দেশ—আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ—শুধু একটি ভূখণ্ড নয়; এটি আমাদের ভালোবাসা, আমাদের দায়িত্ব এবং আমাদের ভবিষ্যৎ। এই দেশের মানুষের কল্যাণে আমরা যদি প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে একটু করে এগিয়ে আসি, তাহলে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “আসুন, আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখি, একে অন্যের পাশে দাঁড়াই এবং আমাদের দেশকে আরও সুন্দর, মানবিক ও কল্যাণমুখী করে গড়ে তুলি।” বক্তব্যের শেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে সবাইকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার শক্তি ও সামর্থ্য দেওয়ার জন্য দোয়া করেন।
আলোচনায় সাঈদ এস্কান্দারের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় এবং প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য তাঁর কাজের মধ্যেও একটি মানবিক যোগসূত্র তুলে ধরা হয়। বক্তাদের মতে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল অধিকার, মর্যাদা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সংগ্রাম। একইভাবে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও মূলত অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন।
একজন মানুষের শ্রবণক্ষমতা ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তার নাগরিক মর্যাদা, প্রতিভা এবং স্বপ্নের মূল্য কোনো অংশে কম নয়। বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের অধিকার ও মর্যাদার চেতনার সঙ্গে প্রতিবন্ধী মানুষের সমান সুযোগের দাবির এই সংযোগটি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় বাংলাদেশের ডেফ ক্রিকেটকে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে নিতে কয়েকটি অগ্রাধিকারও তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান বধির ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ক্রিকেটার খুঁজে বের করা, তাঁদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মানসম্মত অবকাঠামোর সুযোগ দেওয়া, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ জাতীয় ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং নারী বধির ক্রিকেটারদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের শুধু ক্রিকেটার হিসেবে নয়, ভবিষ্যৎ নেতা, রোল মডেল ও বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, বধির ক্রিকেটের সংবাদ কেবল কোনো দল বা খেলোয়াড় টুর্নামেন্ট জয়ের পর প্রকাশ করলেই যথেষ্ট নয়। তাঁদের প্রস্তুতি, সংগ্রাম, পারিবারিক সহায়তা, প্রশিক্ষণের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছানোর স্বপ্নও গণমাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, দৃশ্যমানতা থেকেই স্বীকৃতি আসে, আর স্বীকৃতি থেকেই অনেক সময় নতুন সুযোগ, পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার পথ খুলে যায়।
সাঈদ এস্কান্দারের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, একজন প্রতিষ্ঠাতার সাফল্য শুধু তাঁর জীবদ্দশায় কতগুলো আয়োজন করেছিলেন, তা দিয়ে বিচার করা যায় না; তাঁর অনুপস্থিতিতেও তাঁর শুরু করা কাজ কতটা বেঁচে থাকে, সেটিই বড় প্রশ্ন।
সাঈদ এস্কান্দার যে সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছিলেন, সেটিকে আরও বিস্তৃত করা এবং তাঁর স্বপ্নকে প্রতিষ্ঠান, সুযোগ ও অর্জনে রূপ দেওয়া বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব।
তাঁরা বলেন, তিনি একটি দরজা খুলেছিলেন—এখন সেই দরজা আরও বড় করা দায়িত্ব; তিনি একটি প্রদীপ জ্বালিয়েছিলেন—সেটি নিভতে না দেওয়া দায়িত্ব; তিনি একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন—সেই স্বপ্নকে বাস্তব সুযোগ ও অর্জনে পরিণত করাও বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব।
বক্তারা বলেন, মৃত্যুবার্ষিকীতে শুধু স্মৃতিচারণ, ফুল, বক্তব্য বা দোয়ার মধ্যেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।
সাঈদ এস্কান্দারের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা হবে তাঁর শুরু করা কাজকে সামনে এগিয়ে নেওয়া—বধির ক্রিকেটারদের জন্য প্রশিক্ষণ, মাঠ, কোচিং, অর্থায়ন, প্রতিযোগিতা এবং নারী ক্রিকেটারদের জন্যও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
প্রতিবন্ধী শিশুকে বিশ্বাস করতে হবে যে, প্রয়োজনীয় সুযোগ পেলে সেও একদিন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। শুধু স্মরণ নয়, তাঁর রেখে যাওয়া কাজকে বাস্তবে এগিয়ে নেওয়ার মধ্যেই স্মরণসভার সার্থকতা—এমন মত প্রকাশ করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্ব বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় উপস্থাপন করেন রাব্বি হাসান নাঈম। অতিথি পরিচিতি, অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য এবং বিভিন্ন পর্বের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে সংগঠনের কর্মকর্তা, নির্বাহী সদস্য, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিডিসিএর সহ-সভাপতি মো. সালাউদ্দিন আহমেদ; যুগ্ম সম্পাদক এস. এম. মঞ্জুর ইকবাল; কোষাধ্যক্ষ মো. ওয়াজেদ আলী; নির্বাহী সদস্য কে. এম. জাহিদ হাসান; নির্বাহী সদস্য ফাহিম সলিম ফাহমী এবং নির্বাহী সদস্য মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ। তাঁদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দারের রূহের মাগফিরাত কামনায় কুরআন তিলাওয়াত, মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। গুলফেশা প্লাজা মসজিদের পেশ ইমাম মিলাদ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
মোনাজাতে সাঈদ এস্কান্দারের রূহের মাগফিরাত, তাঁর নেক আমল কবুল এবং জান্নাতুল ফেরদাউস নসিবের জন্য দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে প্রয়াত স্বজনদের রূহের মাগফিরাত, দেশ ও জাতির কল্যাণ, মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি এবং অসহায়, পিছিয়ে পড়া ও প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণে কাজ করার তাওফিক কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিডিসিএর সহ-সভাপতি মো. সালাউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি, সংগঠনের কর্মকর্তা ও সদস্য, শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেটার, তাঁদের পরিবারবর্গ, শুভানুধ্যায়ী এবং উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দারের স্মৃতি ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শেষে উপস্থিতদের মধ্যে তোবারক বিতরণের মাধ্যমে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের সমাপ্তি হয়।
অনুষ্ঠানের আলোচনার মূল প্রত্যয়কে সামনে রেখে বলা হয়—“শ্রবণ ভিন্ন হতে পারে—স্বপ্ন নয়। খেলাধুলায় সবার জন্য সমান সুযোগ।”
এই বার্তার মধ্য দিয়েই সাঈদ এস্কান্দারের স্মরণ, বাংলাদেশ শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেট এসোসিয়েশনের অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শন এবং বাংলাদেশের ডেফ ক্রিকেটকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়। মূল বক্তব্যে একই ভাবনা “Different Ears, Same Dreams. Cricket Unites Abilities, Not Disabilities.” কথায়ও প্রকাশ করা হয়েছে।
-অধিকারপত্র বিশেষ প্রতিবেদক
#সাঈদ_এস্কান্দার #মেজর_সাঈদ_এস্কান্দার #বীর_মুক্তিযোদ্ধা #মৃত্যুবার্ষিকী #দোয়া_মাহফিল #মিলাদ_মাহফিল #বাংলাদেশ_শ্রবণ_প্রতিবন্ধী_ক্রিকেট_এসোসিয়েশন #ডেফ_ক্রিকেট #শ্রবণ_প্রতিবন্ধী #প্রতিবন্ধী_অধিকার #অন্তর্ভুক্তিমূলক_সমাজ #খেলাধুলায়_অন্তর্ভুক্তি #ক্রিকেট_সবার_জন্য #মানবিক_বাংলাদেশ #মানুষই_সবচেয়ে_বড়_পরিচয় #SayeedEskandar #MajorSayeedEskandar #BangladeshDeafCricket #DeafCricket #DisabilityInclusion #InclusiveSports #CricketForAll #HumanityFirst #BangladeshCricket #OdhikarPatro
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দারের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর বড় মগবাজারের গুলফেশা প্লাজা মসজিদে বাংলাদেশ শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেট এসোসিয়েশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, কুরআন তিলাওয়াত, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।