09/28/2026 মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ৫ ছাত্রী, ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
odhikarpatra
২৬ September ২০২৬ ২১:৩৬
অধিকারপত্র ডটকম /নাঃগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচ ছাত্রী দগ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আহত পাঁচজনকেই রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুরের হাজীপাড়া এলাকায় মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ শিক্ষার্থীরা হলো—মোছাম্মদ জিদনি (১৪), লামিয়া (১৪), মরিয়ম (১২), আতিয়া (১১) ও আছিয়া (১০)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, বিকেলে মাদ্রাসার তিনতলা ভবনের ছাদে কয়েকজন ছাত্রী খেলছিল। এ সময় তাদের সঙ্গে একটি আখ ছিল। ছাদের ওপর দিয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত আখটি বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে আসে। এতে মুহূর্তের মধ্যে পাঁচ ছাত্রী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হয়।
পরে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী পাঁচ ছাত্রী দগ্ধ অবস্থায় জরুরি বিভাগে আসে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন ও চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
রাত ১১টার দিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দগ্ধদের মধ্যে জিদনির শরীরের ৮২ শতাংশ, লামিয়ার ৫৫ শতাংশ এবং আতিয়ার ৪৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসকরা এই তিন ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন। অপর দুই ছাত্রীর মধ্যে একজনের শরীরের ১৩ শতাংশ এবং অন্যজনের ৭ শতাংশ পুড়ে গেছে।
মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি আবদুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রায় আড়াইশ ছাত্রী পড়াশোনা করে। বিকেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাদে খেলতে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা চলছে। রবিবার সকালে তাদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাদ্রাসার ভবনের ওপর দিয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা প্রশ্ন উঠেছে।