09/26/2026 DMD পদে পদোন্নতির ভাইভা শুরু কাল, অংশ নেবেন ৭০–৮০ কর্মকর্তা
odhikarpatra
২৬ September ২০২৬ ২১:৩৬
রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (DMD) পদে পদোন্নতির জন্য বাছাই প্রক্রিয়ার ভাইভা শুরু হচ্ছে আগামীকাল রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর)। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ ভাইভায় বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন কর্মকর্তা অংশ নিতে পারেন। তাদের মধ্য থেকে প্রায় ৬ থেকে ৭ জনকে DMD পদে পদোন্নতির জন্য বাছাই করা হতে পারে।
তবে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তার চূড়ান্ত সংখ্যা এবং কোন ব্যাংক থেকে কতজন কর্মকর্তা ভাইভায় অংশ নিচ্ছেন—এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্য সরকারি পূর্ণ তালিকা পাওয়া যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া সংখ্যাকে প্রাথমিক তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
DMD পদে পদোন্নতির জন্য গঠিত বাছাই কমিটিতে রয়েছেন পাঁচ সদস্য। কমিটির সভাপতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মুস্তাকুর রহমান।
কমিটির সদস্য-সচিব আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আজিজুদ্দিন বিশ্বাস এনডিসি, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাসান খালেদ ফয়সাল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আশ্রাফুল আলম।
২০২৬ সালের নতুন নীতিমালায় রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক পদে মনোনয়ন, নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালাটি ২৬ জুলাই ২০২৬ প্রকাশ করা হয়।
নীতিমালার আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা DMD পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (BDBL) এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক রয়েছে।
তবে এসব ব্যাংকের সবাই এবারের ভাইভায় অংশ নিচ্ছেন—এমন দাবি করা হচ্ছে না। কোন ব্যাংক থেকে কতজন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন, তা নিশ্চিত না
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাম্প্রতিক আদেশগুলোতেও রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের DMD পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এবারের ভাইভায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন কর্মকর্তা অংশ নিতে পারেন। তাদের মধ্য থেকে ৬ থেকে ৭ জনকে DMD পদে পদোন্নতির জন্য বাছাই করা হতে পারে।
অবশ্য চূড়ান্তভাবে কতজনকে পদোন্নতি দেওয়া হবে, তা বাছাই কমিটির মূল্যায়ন এবং পরবর্তী সরকারি অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
বোর্ডের গঠন বিবেচনায় প্রার্থীদের কাছে শুধু ব্যক্তিগত চাকরির অভিজ্ঞতা নয়, বরং ব্যাংক পরিচালনা, অর্থনীতি, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সুশাসন ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে।
সম্ভাব্য প্রশ্নের ধরন:
১. বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কী এবং DMD হিসেবে আপনি কীভাবে তা মোকাবিলা করবেন?
২. খেলাপি ঋণ কমানোর ক্ষেত্রে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার ভূমিকা কী হওয়া উচিত?
৩. তারল্য সংকট ও আমানত ব্যবস্থাপনা কীভাবে করবেন?
৪. ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত করতে DMD হিসেবে আপনার অগ্রাধিকার কী হবে?
৫. মূলধন পর্যাপ্ততা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও লাভজনকতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখবেন?
সম্ভাব্য প্রশ্নের ধরন:
১. রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মদক্ষতা বাড়াতে ব্যবস্থাপনার কী পরিবর্তন প্রয়োজন?
২. সরকারি ব্যাংকে জবাবদিহি ও সুশাসন কীভাবে নিশ্চিত করবেন?
৩. রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে আপনার কর্মপরিকল্পনা কী?
৪. DMD হিসেবে মন্ত্রণালয়, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় কীভাবে করবেন?
৫. ব্যাংকের লোকসান কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই মুনাফা নিশ্চিত করার কৌশল কী?
সম্ভাব্য প্রশ্নের ধরন:
১. রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা কীভাবে চিহ্নিত করবেন?
২. সরকারি নীতিমালা ও ব্যাংকের ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে করবেন?
৩. ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্ত কীভাবে নিশ্চিত করবেন?
৪. ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপনা ও মাঠপর্যায়ের কর্মদক্ষতা কীভাবে বাড়াবেন?
৫. DMD হিসেবে আপনার কাছে জবাবদিহি ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব কী?
সম্ভাব্য প্রশ্নের ধরন:
১. ব্যাংকের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য কীভাবে উন্নত করবেন?
২. সুদের হার, মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকের মুনাফার মধ্যে সম্পর্ক কী?
৩. রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন?
৪. সরকারি অর্থ ও ব্যাংকের নিজস্ব সম্পদের ব্যবস্থাপনার মধ্যে পার্থক্য কী?
৫. ব্যাংকের মুনাফা বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকি কমানোর কৌশল কী হতে পারে?
সম্ভাব্য প্রশ্নের ধরন:
১. বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃষ্টিতে একটি ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রধান সূচকগুলো কী?
২. NPL বাড়লে ব্যাংকের মূলধন ও তারল্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে?
৩. ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও কমপ্লায়েন্স কীভাবে শক্তিশালী করবেন?
৪. AML/CFT ও KYC ব্যবস্থাপনায় একজন DMD-এর ভূমিকা কী?
৫. ডিজিটাল ব্যাংকিং বাড়ানোর সঙ্গে সাইবার ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করবেন?
DMD পদে প্রার্থীদের জন্য নিজের ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক অবস্থা, খেলাপি ঋণ, আমানত, ঋণ-আমানত অনুপাত, মুনাফা-লোকসান, মূলধন, তারল্য, শাখা নেটওয়ার্ক, প্রযুক্তি ও সুশাসন সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এ ছাড়া “DMD হিসেবে দায়িত্ব পেলে প্রথম ১০০ দিনে কী করবেন?”, “খেলাপি ঋণ কীভাবে কমাবেন?”, “ব্যাংকের সুশাসন কীভাবে নিশ্চিত করবেন?”—এ ধরনের পরিস্থিতিভিত্তিক প্রশ্নের জন্যও প্রস্তুতি প্রয়োজন।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির নতুন কাঠামোর ফলে এবারের বাছাই প্রক্রিয়াটি ব্যাংকিং খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
