09/27/2026 কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
odhikarpatra
২৭ September ২০২৬ ২১:৩২
অধিকারপত্র ডটকম, জাতীয় ডেক্স:
বিশেষ প্রতিনিধি,
দল-মত-পথের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় কৃষক সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বিষয়টি বাসসকে জানিয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষকরাই দেশের প্রকৃত শক্তি এবং দেশ গড়ার অন্যতম প্রধান যোদ্ধা। কৃষকদের সম্মান ও উৎসাহিত করতে কৃষিক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন ও অসামান্য অবদানের জন্য ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে একটি বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে ইতিবাচক ও সম্ভাবনাময় খাতগুলোর একটি কৃষি। কৃষকের ঘাম, শ্রম, উচ্চফলনশীল নতুন জাত উদ্ভাবন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ফলে দেশে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। কৃষকেরা দুর্নীতি না করে সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষিপণ্য ও শস্য যাতে সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে এবং কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পান, সে জন্য কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে কৃষকদের আরও সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি জানান, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও কৃষকদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার একটি নতুন স্কিম চালু করেছে। এর আওতায় ইতোমধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সহজ শর্তে কম সুদে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করাসহ কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, অচিরেই কৃষকরা এসব উদ্যোগের সুফল পাবেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির প্রতিনিধি দল কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, বিনা সুদে ঋণ সুবিধা, কৃষকদের স্বীকৃতি দিতে কৃষক দিবস পালন, জাতীয় পর্যায়ে কৃষক পুরস্কার প্রদান, শস্যবীমা চালু, জেলা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটিতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপের কামড় থেকে কৃষকদের সুরক্ষা এবং কৃষি উপকরণ সুলভ মূল্যে সরবরাহসহ বিভিন্ন দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে উৎপাদিত ফলমূল ও বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং এ খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে আরও উদ্যোগী হওয়ার জন্য তিনি কৃষক সমিতির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
এ ছাড়া কৃষিপ্রক্রিয়াজাত শিল্প-কারখানা ও আধুনিক হিমাগার স্থাপনের পাশাপাশি খামারে আধুনিক সোলার প্যানেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। এনজিও থেকে নেওয়া কৃষিঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে সমিতির সভাপতি ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৭০ বছরের বেশি বয়সী কৃষকদের সংবর্ধনা এবং আধুনিক কৃষিপণ্য প্রদর্শন ও বাণিজ্যিকীকরণে মেলার আয়োজনের উদ্যোগের কথা রাষ্ট্রপতিকে জানান। তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি মেলায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন মো. আব্দুল জলিল, মো. হাসান আলী, মোছা. বেলী বেগম, মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার, মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম। এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিবরাও উপস্থিত ছিলেন।