10/02/2026 ‘গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার হাত মিলিয়ে অরাজকতার চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী
odhikarpatra
১ October ২০২৬ ২৩:৫০
অধিকারপত্র ডটকম
ক্ষমতাচ্যুত বিগত সরকারের অনুসারী ও একটি ‘গুপ্ত বাহিনী’ হাত মিলিয়ে সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত এবং দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, ইমাম-মোয়াজ্জিন, খাদেম ও মন্দিরের পুরোহিতদের সম্মাননা এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তা কার্যক্রম উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। একই বক্তব্যের বিষয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ‘গুপ্ত রাজনীতি’ করে এবং ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। অরাজকতা সৃষ্টি হলে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে নেওয়া কর্মসূচিগুলোও বাধাগ্রস্ত হবে।
তারেক রহমান বলেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের নিয়মিত সহায়তা এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সার, কীটনাশক ও বীজসহ কৃষি উপকরণে সহায়তার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে ইতোমধ্যে এক লাখের বেশি কৃষক কৃষক কার্ড পেয়েছেন।
তিনি বলেন, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাম্প্রতিক ‘এক দফা’ দাবির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, যারা এ ধরনের দাবি তুলছেন, তাদের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি কী।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্প্রসারণের মতো কর্মসূচি তাদের রয়েছে কি না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির কর্মসূচির মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা, খাল খনন এবং বন্ধ থাকা কল-কারখানা পুনরায় চালুর বিষয় রয়েছে।
‘গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত সরকারের মধ্যে যোগসূত্রের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পতনের পর ওই গোষ্ঠীর লোকজনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই দুই পক্ষ অতীতের বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক ঘটনাতেও একসঙ্গে কাজ করেছে।
তিনি বলেন, ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনেও তাদের একসঙ্গে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য, এ কারণেই তাদের ‘গুপ্ত’ বলা হয়।
এর আগে জুলাই মাসেও প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত বাহিনী’র আত্মপ্রকাশের কথা উল্লেখ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন।
বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর বিগত ১৭ বছরে নিপীড়ন, কারাবাস ও ‘গায়েবি মামলা’র অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণ রাজপথে নেমে এসেছিল এবং আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট ওই সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন ও দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জনগণকে অরাজকতা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তবে ‘গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত সরকারের মধ্যে যোগসূত্র এবং অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগগুলো প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উত্থাপিত রাজনৈতিক অভিযোগ; এগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।