10/04/2026 চট্টগ্রামের রাউজানে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে গোলাগুলির ঘটনায় ১২ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার দাবি পুলিশের;
odhikarpatra
২ October ২০২৬ ১৭:০৪
অধিকারপত্র ডটকম, মহানগর ডেক্স
অধিকারপত্র চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের রাউজানে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের সময় গোলাগুলির ঘটনায় ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে জেলা পুলিশ। অভিযানে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে গোলাগুলির কথা বলা হলেও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা ওই রাতে এলাকায় কোনো গুলির শব্দ শোনেননি। ফলে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের কথিত গোলাগুলির বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।
বুধবার (১ অক্টোবর) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়াপাড়ায় এ অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযান ও গ্রেপ্তারের তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের ভাষ্য, জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিল।
এর ভিত্তিতে বুধবার রাতে দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়াপাড়ায় জানে আলমের বসতঘরের সামনে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের দাবি, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের ভেতরে থাকা জানে আলম, আজিজ বস, দিলদার হোসেন, মো. রুবেল, মো. মামুন-অর-রশিদ ও মো. বাঁচাসহ অন্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ১২ সদস্য আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন এসআই (নিরস্ত্র) জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই খোরশেদ আলম, এসআই বায়েজিদ মৃধা, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মো. জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস ও এএসআই রবিউল হোসেন।
অভিযান চলাকালে দিলদার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তার কাছ থেকে একটি দোনলা বন্দুক, একটি একনলা কাটা বন্দুক, ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি এবং ছয়টি সিসা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযানে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
তবে পুলিশের দাবির সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
কদলপুর এলাকার বাসিন্দা হামির হামজা বলেন, তিনি রাত ১২টা পর্যন্ত জেগে ছিলেন। এ সময় এলাকায় কোনো গুলির শব্দ শুনতে পাননি। তবে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করেছে বলে তিনি শুনেছেন।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে রাউজানের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ডাকাত আলমের একজন সহযোগী গ্রেপ্তার হওয়ার কথা শুনেছেন। তবে তিনি নিজেও কোনো গোলাগুলির শব্দ শোনেননি বলে জানান।
পুলিশ বলছে, অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে তাদের ১২ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয়দের কয়েকজন দাবি করছেন, তারা গোলাগুলির কোনো শব্দ শুনতে পাননি। ফলে ঘটনাস্থলে আসলে কীভাবে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যের পাশাপাশি স্থানীয়দের বক্তব্যও সামনে এসেছে।
রাউজানে পুলিশের অভিযানে গোলাগুলির দাবি, আহত ১২ সদস্য; স্থানীয়রা বলছেন গুলির শব্দ শোনেননি
#রাউজান #চট্টগ্রাম #পুলিশঅভিযান #গোলাগুলি #পুলিশআহত #অস্ত্রউদ্ধার #গ্রেপ্তার #কদলপুর #অপরাধ #বাংলাদেশসংবাদ #অধিকারপত্র