10/07/2026 শিশুদের প্রতিভা বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা-সংস্কৃতির সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
odhikarpatra
৬ October ২০২৬ ১৯:৪৭
দেশের প্রতিটি শিশুর মধ্যে কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি, সংগীত ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য— ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি শিশুর মধ্যে কোনো না কোনো গুণ রয়েছে। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটি করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারে।’
তিনি বলেন, শিশু শুধু পরিবারের সদস্য নয়, তারা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। শিশুরা সঠিকভাবে বেড়ে উঠলে পরিবারের পাশাপাশি দেশের ভিত্তিও শক্তিশালী হবে। প্রতিটি শিশুকে যথাযথভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে পারলে বাংলাদেশের ভিত্তি আরও মজবুত হবে।
শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু লেখাপড়ায় ভালো হলেই হবে না। খেলাধুলা, শিল্প, সংস্কৃতি ও সংগীতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও নিজেদের প্রতিভা বিকাশ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের আজ পড়ালেখার কথা বলব না। আমি বলব, তোমাদের খেলাধুলা করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো শিশু ভালো ছবি আঁকতে পারে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করতে পারে, কেউ গান বা বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে, আবার কেউ নাচ কিংবা কোরআন তেলাওয়াতে পারদর্শী। তাই প্রত্যেক শিশুকে তার পছন্দ ও আগ্রহ অনুযায়ী নিজেকে বিকশিত করার সুযোগ দিতে হবে।
শিশুদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, সম্প্রতি প্রাথমিক পর্যায়ে ছেলে ও মেয়েদের অংশগ্রহণে দেশব্যাপী ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে প্রায় ২২ লাখ শিশু—১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে—এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।
এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখা গেলে অংশগ্রহণকারী শিশুদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি চালু করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই উদ্যোগের পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলার বিকাশেও নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
সরকার চায়, প্রতিটি শিশু শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে অন্তত একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাক।
তিনি বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও যেন এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য স্কুল পর্যায় থেকেই আর্ট, কালচার, স্পোর্টস ও মিউজিকের সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতি অনেকটা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ২০২৭ বা ২০২৮ সাল থেকে তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের কথা বিবেচনায় শিশুদের বিদেশি ভাষা শেখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান ও জাপানিসহ বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ শিশুদের জন্য সৃষ্টি করা হবে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে গেলে তৃতীয় একটি ভাষা জানা তাদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।
এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে অন্য দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় শিশুরা বাড়তি সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পড়াশোনা, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি কিংবা একাধিক ভাষা জানলেই একজন মানুষ সম্পূর্ণ হয় না; তাকে মানবিক হতে হবে।
তিনি বলেন, ‘তোমাদেরকে মানবিক হতে হবে। এই দেশের প্রকৃতি, পশুপাখির প্রতিও তোমাদের মানবিক হতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে মানুষ শুধু মানুষের প্রতিই নয়, প্রকৃতি ও প্রকৃতির সৃষ্টির প্রতিও সদয় হবে।
শিশুদের গাছপালা ও পশুপাখির যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি গাছকে শিশুর মতো যত্ন করে বড় করে তুলতে হবে। একইভাবে আশপাশের পশুপাখির প্রতিও সহানুভূতিশীল হতে হবে। প্রকৃতির প্রতি সদয় হলে প্রকৃতিও মানুষের প্রতি সদয় হবে।
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে শিশুদের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
কোনো বড় মানুষকে যত্রতত্র ময়লা ফেলতে দেখলে বিনয়ের সঙ্গে তাকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার কথা বলতে শিশুদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, একজন শিশু চাইলে বড়দেরও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতন করতে পারে। পরিবেশ নষ্ট হলে শুধু একজন শিশু নয়, বাংলাদেশের লাখো-কোটি শিশুই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্তানদের মধ্যে প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধ তৈরি করতে হবে।
বক্তব্য শেষে শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশনায় অংশ নেওয়া শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ফটোসেশনে অংশ নেন তিনি এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
পরে শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর শিশু জাদুঘর ভবনে গিয়ে ভবনের নিচতলায় স্থাপিত সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করেন।
এর আগে সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানায়। পরে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।