10/09/2026 দৌলতপুরে মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, আহত ৩ পুলিশ
odhikarpatra
৮ October ২০২৬ ২৩:৫৬
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষককে ঘেরাও করে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতার হামলায় থানার ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
অধিকার পত্র ডটকম | দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের একাধিক আবাসিক শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময়ে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ জানাজানি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের ওই মাদ্রাসা ঘেরাও করেন।
একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গাড়িতে তুলে থানায় নেওয়ার সময় উত্তেজিত স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমানসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।
আহত অন্য দুই পুলিশ সদস্য হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলাম ও কনস্টেবল আজম হোসেন। পরে তারা দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
খলিশাকুন্ডি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে ক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করেন।
তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর হামলা করেন। এতে তিনি নিজেসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, আহত ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য হাসপাতালে এলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য নেওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।