10/09/2026 কক্সবাজারে হোটেলের ওয়াশরুমে তরুণী হত্যা, কথিত প্রেমিক গ্রেপ্তার
odhikarpatra
৮ October ২০২৬ ২৩:৫৮
অধিকার পত্র ডটকম | কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের ওয়াশরুম থেকে কুলসুমা আক্তার (২২) নামে এক তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্ত কথিত প্রেমিক মো. ইরফানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।
গ্রেপ্তার ইরফান (২৫) কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের ৪ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা। তিনি মৃত লেদু হোসেন ও জরিনা খাতুনের ছেলে। তার এফসিএন নম্বর ১৮৪৭১৭।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার ‘স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্ট’-এর তৃতীয় তলার ৩০২ নম্বর কক্ষ থেকে কুলসুমার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে ইরফান কুলসুমার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ওই কক্ষে উঠেছিলেন।
হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন দুপুরে ইরফান ও কুলসুমা দুই বছরের একটি শিশুসহ হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। পরে কক্ষ থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মমতাজ বেগম।
দরজা খোলা থাকায় তিনি ভেতরে প্রবেশ করে ওয়াশরুমে কুলসুমার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের দাবি, কুলসুমাকে হত্যার পর ইরফান তার বোনকে ফোন করে বলেন, ‘তোর বোনকে খুন করে ফেলেছি, বাস টার্মিনালে গিয়ে তোর বোনের লাশ নিয়ে যা।’
এরপর থেকেই ইরফানকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
ঘটনার পর গত ১ অক্টোবর ইরফানকে প্রধান আসামি করে কক্সবাজার সদর থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ ও এপিবিএনের যৌথ অভিযানে উখিয়ার মধুছড়া ক্যাম্প থেকে ইরফানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত কুলসুমার পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ঈদগাঁও চাক্কার দোকান এলাকার হারুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন কুলসুমা।
৩০ সেপ্টেম্বর ওই মামলার শুনানির তারিখ ছিল। আদালতে হাজিরা দিতে ঈদগাঁও থেকে কক্সবাজার শহরে এসে ইরফানের সঙ্গে হোটেলে উঠেছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য বিরোধের পর ইরফানের সঙ্গে কুলসুমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে স্থানীয় আরেক যুবকের সঙ্গে কুলসুমার যোগাযোগ তৈরি হলে ইরফান ক্ষুব্ধ হন বলেও সূত্রটি দাবি করেছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, কুলসুমাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ইরফানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আদালতে উপস্থাপনের পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যার প্রকৃত কারণ বের করার চেষ্টা করা হবে।
নিহত কুলসুমা ঈদগাঁও পূর্ব চান্দেরঘোনা এলাকার মোহাম্মদ আলমের মেয়ে। ১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল—তদন্তে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওঠার পর তরুণী খুন, কথিত প্রেমিক গ্রেপ্তার
#কক্সবাজার #কুলসুমাআক্তার #তরুণীহত্যা #হোটেলহত্যা #ইরফান #গ্রেপ্তার #রোহিঙ্গাক্যাম্প #কক্সবাজারসদর #অধিকারপত্র