10/11/2026 কান্নার ভিডিও দেখে মন গলল ব্যবসায়ীর, জার্মান পর্যটককে উপহার দিলেন ম্যাকবুক
odhikarpatra
১১ October ২০২৬ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকার পত্র ডটকম
বাংলাদেশে ঘুরতে এসে ল্যাপটপ ও ক্যামেরা হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন জার্মান তরুণ পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সেই কান্নার ভিডিও দেখে মর্মাহত হন ঢাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মুক্তি মাহমুদ। পরে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে ওই পর্যটককে একটি ম্যাকবুক উপহার দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর হাজারীবাগ থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে ১৮ বছর বয়সী ক্রিল ল্যান্ডারের হাতে ম্যাকবুকটি তুলে দেন মুক্তি মাহমুদ। তাঁর প্রত্যাশা, বাংলাদেশ ছাড়ার আগে তরুণ পর্যটক যেন অন্তত একটি ভালো স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন।
কান্নার ভিডিও দেখে মনে পড়ে নিজের ছেলের কথা
প্রথম আলোকে দেওয়া বক্তব্যে মুক্তি মাহমুদ জানান, কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিলের ল্যাপটপ ও ক্যামেরা চুরির খবর দেখছিলেন তিনি। একপর্যায়ে থানায় বসে ওই তরুণের কান্নার ভিডিও চোখে পড়লে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হন।
মুক্তি মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে বেড়াতে এসে মাত্র ১৮ বছর বয়সী একজন বিদেশি পর্যটকের জিনিসপত্র চুরি যাওয়ার ঘটনা তাঁর খুব খারাপ লেগেছে। ক্রিলের বয়সী তাঁর নিজেরও একটি ছেলে রয়েছে, যে বিদেশে পড়াশোনা করছে। ছেলের কথা মনে হওয়ায় ঘটনাটি তাঁকে আরও বেশি নাড়া দেয়।
ভিডিওটি দেখার পর থেকেই ক্রিলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তিনি। পরে শাওন নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করে ওই তরুণের সঙ্গে দেখা করেন মুক্তি মাহমুদ।
‘বাংলাদেশ থেকে ভালো স্মৃতি নিয়ে ফিরুক’
ক্রিলকে ম্যাকবুক উপহার দেওয়ার বিষয়ে মুক্তি মাহমুদ বলেন, সবার পক্ষ থেকে তাঁকে একটি ম্যাকবুক দেওয়া হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ ছাড়ার আগে ছেলেটি কিছুটা হলেও ভালো স্মৃতি নিয়ে ফিরতে পারে।
তাঁর এই উদ্যোগ শুধু একজন পর্যটককে একটি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিপণ্য উপহার দেওয়ার ঘটনা নয়; বরং বিপদের সময়ে একজন অপরিচিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবেও সামনে এসেছে।
দেশের ভাবমূর্তি নিয়েও উদ্বেগ
মুক্তি মাহমুদ রাজধানীর জিগাতলা এলাকায় বসবাস করেন। দীর্ঘ সময় লন্ডনে থাকার পর বর্তমানে তিনি আনজুমান ডিজাইনারস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত।
তিনি জানান, ক্রিলের জিনিসপত্র চুরির ঘটনা জেনে তাঁর বিদেশি বন্ধুদের অনেকেই বিব্রত হয়েছেন। তাঁর মতে, বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে এমন ঘটনা দেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ভাবনা থেকেই তিনি ক্রিলের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন।
বাংলাদেশে ভ্রমণে আসা একজন বিদেশি তরুণের দুর্ভোগের ঘটনায় যেমন নিরাপত্তা ও পর্যটকসেবার প্রশ্ন সামনে এসেছে, তেমনি মুক্তি মাহমুদের উদ্যোগ দেখিয়েছে—ব্যক্তিগত সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণও একজন মানুষের অভিজ্ঞতা বদলে দিতে পারে।