10/15/2026 কৃষিকে লাভজনক করার তাগিদ রাষ্ট্রপতির, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের আহ্বান
odhikarpatra
১৫ October ২০২৬ ১৬:২১
নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
বাংলাদেশের কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, কৃষিকাজ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকরা এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন। ফলে মাঠে কাজ করার জন্য কৃষক ও শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকের আয় বাড়ানো, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের প্রণোদনা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের তাগিদ
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি উত্তরাঞ্চলে আলুর উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সমস্যার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও অনেক সময় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। পরিস্থিতির কারণে তাঁদের কখনো কখনো রাস্তায় আলু ফেলে দিতে বাধ্য হতে হয়। অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। আবার উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর আলুর দাম অনেক বেড়ে যায়। অন্যান্য সবজি ও কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।
এ সমস্যা সমাধানে আলু, টমেটো, অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপযোগী কোল্ড স্টোরেজ এবং আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
কৃষি গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণে গুরুত্ব
রাষ্ট্রপতি কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলোর সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, উৎপাদন বাড়লেই কৃষকের লাভ নিশ্চিত হয় না; উৎপাদিত পণ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং উপযুক্ত সময়ে বাজারজাত করার সুযোগও থাকতে হবে।
পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষি গবেষকদের সাফল্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতো। বর্তমানে আমদানির প্রয়োজন না হওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। এ ধরনের সাফল্য ধরে রাখতে কৃষি গবেষণা জোরদার করা এবং ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে গুরুত্ব দিতে হবে।
অতিরিক্ত রাসায়নিক সারে মাটির ক্ষতি
কৃষিজমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, অতিরিক্ত সার মাটির ক্ষতি করছে এবং ফসলের গুণগত মান নষ্ট করছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষি বিজ্ঞানীরা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। এ সময় কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়ন উদ্যোগ স্মরণ
বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি এবং উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি খাতে পরিবর্তন এনেছিলেন।
এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।
বারি পরিদর্শনে রাষ্ট্রপতি
মতবিনিময় সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বারির মহাপরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি বারির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। সবশেষে উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্রের (পিজিআরসি) প্রাঙ্গণে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন।